মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে দায়িত্ব পালনকালে দুই সাংবাদিককে মারধর, আটকে রাখা এবং সংবাদ সংগ্রামের সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মো. খায়রুজ্জামান (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। খায়রুজ্জামান তেঁতুলবাড়ী ইউনিয়নের মৃত ছহির আলীর ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় তিনি অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে উল্লেখ ছিলেন।
গাংনী থানার এসআই অঙ্কুশ ও এসআই করিমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।
গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) অধীনে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থীদের বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার দৃশ্য ধারণ করতে যান দুই সাংবাদিক। তাঁরা হলেন নাগরিক টেলিভিশনের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি রাব্বি আহমেদ এবং দৈনিক খবরের কাগজের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি তারিক হোসেন।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, পরীক্ষার হলে কয়েকজন পরীক্ষার্থী বই খুলে পরীক্ষা দিচ্ছেন—এমন দৃশ্য ধারণের সময় কয়েকজন তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। পরে তাঁদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন ও নাগরিক টেলিভিশনের একটি বুম মাইক্রোফোন নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।
পরে ওই দুই সাংবাদিক গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
ঘটনার পর শুক্রবার রাতে সাংবাদিক রাব্বি আহমেদ বাদী হয়ে কাজিপুর ডিগ্রি কলেজের দুই শিক্ষক মনিরুজ্জামান বিপ্লব ও মো. রফিকুজ্জামান বাবর আলীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে গাংনী থানায় মামলা করেন।
মামলার পর জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের জন্য অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে তেঁতুলবাড়িয়া এলাকা থেকে খায়রুজ্জামান ওরফে আকামতকে আটক করা হয়।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘মামলায় অজ্ঞাতনামা একজনকে রাতে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। তদন্তে ঘটনায় কার কী ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্তে কাজ চলছে।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

মতামত