জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

আমার প্রিয় মেহেন্দিগঞ্জ স্বপ্ন ও সম্ভাবনার ভবিষ্যৎ

আমার প্রিয় মেহেন্দিগঞ্জ স্বপ্ন ও সম্ভাবনার ভবিষ্যৎ

আমার প্রিয় মেহেন্দিগঞ্জ: স্বপ্ন ও সম্ভাবনার ভবিষ্যৎ

বেলাল হোসেন ঢালী

বিদেশ বাংলা | সিডনি, অস্ট্রেলিয়া

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬

“ধান, নদী, খাল—এই তিনে বরিশাল”—প্রবাদটি যেন বরিশালের প্রকৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রার এক নিখুঁত প্রতিচ্ছবি। মেহেন্দিগঞ্জ বরিশাল জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। বরিশাল জেলা সদর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর দিকে অবস্থিত এই জনপদটি বাংলাদেশের অন্যতম নদীবেষ্টিত ও নদীসমৃদ্ধ অঞ্চল। এটি মূলত মেঘনাবেষ্টিত একটি বৃহৎ দ্বীপ উপজেলা। এর চারপাশ ও বুক চিরে মেঘনা, তেঁতুলিয়া, আড়িয়াল খাঁ, কালাবদর, ইলিশাসহ অসংখ্য নদ-নদী প্রবাহিত হয়েছে।

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর এই দ্বীপাঞ্চল। সুজলা-সুফলা, শ্যামল-সবুজে ঘেরা আমার প্রিয় মেহেন্দিগঞ্জের রয়েছে অপার সম্ভাবনা, রয়েছে সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের স্বপ্ন।

কিন্তু এই সৌন্দর্যের পাশাপাশি মেহেন্দিগঞ্জবাসীর সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম নদীভাঙন। বছরের পর বছর নদীর অব্যাহত ভাঙনে মেহেন্দিগঞ্জের বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বসতবাড়ি, ফসলি জমি, বাগান, স্কুল, কলেজ ও সরকারি প্রতিষ্ঠান একে একে হারিয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের বহু বছরের স্মৃতি, শিকড় ও ভালোবাসার ঠিকানা। অনেক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে আজ যাযাবরের মতো জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে।

প্রায় ১৫ বছর আগে আমি আমার গ্রামের বাড়িতে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন করে একটি বাড়ি নির্মাণ করি। তখন নদী আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ছিল। নদীভাঙনের কোনো আশঙ্কাই তখন আমাদের মনে ছিল না। কিন্তু গত কয়েক বছরে নদী ক্রমাগত ভাঙতে ভাঙতে আজ আমার সেই স্বপ্নের বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে এসে দাঁড়িয়েছে।

এরই মধ্যে আমার প্রিয় গ্রামের প্রায় অর্ধেক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যে কোনো সময় আমার বহু স্বপ্ন, ভালোবাসা ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সেই শখের বাড়িটিও নদীর গ্রাসে হারিয়ে যেতে পারে।

শুধু আমার বাড়িই নয়, নদীভাঙনের আশঙ্কায় রয়েছে আমাদের এলাকার ঐতিহ্য ও স্মৃতির অনেক নিদর্শন। আমাদের ঐতিহ্যবাহী ঢালীর হাট, ঢালীরহাট জামে মসজিদ, আমার নিজের হাতে গড়ে তোলা আব্দুর রব ঢালী ফোরকানিয়া মাদ্রাসা এবং বাড়ির দরজায় অবস্থিত খন্তাখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়—এসব শুধু স্থাপনা নয়; এগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রজন্মের পর প্রজন্মের স্মৃতি, আবেগ ও পরিচয়।

এসব কিছু চোখের সামনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা একজন মানুষের জন্য কতটা বেদনাদায়ক, তা হয়তো কেবল সেই মানুষই অনুভব করতে পারেন, যিনি নিজের শিকড়কে নদীর স্রোতে হারিয়ে যেতে দেখেছেন।

শুধু আমি নই, এটি আজ মেহেন্দিগঞ্জের হাজার হাজার মানুষের বাস্তবতা। নদী যদি এভাবেই ভাঙতে থাকে, তাহলে আগামী কয়েক বছরে মেহেন্দিগঞ্জের আরও একটি বড় অংশ নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এমনকি একসময় আমার প্রিয় মেহেন্দিগঞ্জের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

আমি জানি, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নদীভাঙন রোধ করা অত্যন্ত কঠিন ও ব্যয়বহুল কাজ। একটি বিশাল নদীর গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ নয়। তবুও আশার কথা হলো, মেহেন্দিগঞ্জের নদীভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে হয় আমাদের মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলার মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব রাজীব আহসানকে। নির্বাচনের সময় তিনি মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলার মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা নদীভাঙন রোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। মেহেন্দিগঞ্জের নদীভাঙন রোধে একনেক থেকে প্রায় ৭৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়ার পর তা যথাসময়ে ও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন। নির্বাচনের মাত্র ছয় মাসের মাথায় টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জমি অধিগ্রহণ এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে ব্লক তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।

আশা করি, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে নদীতীরে ব্লক ফেলার কাজ শুরু হবে। আর সেই দিনটি হবে মেহেন্দিগঞ্জবাসীর জন্য নতুন আশার দিন, নদীর সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকার নতুন প্রত্যয়ের দিন।

মেহেন্দিগঞ্জের নদীভাঙন নিয়ে লিখতে গেলে আরেকটি নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করতেই হয়—বিশিষ্ট আইনজীবী ও সমাজকর্মী অ্যাডভোকেট এম. হেলাল উদ্দিন। মেহেন্দিগঞ্জের নদীভাঙন রোধে তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা ও অবদান স্বীকার না করে উপায় নেই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দিন-রাত পরিশ্রম করে নদীভাঙন রোধে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর এই ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

আমি স্বপ্ন দেখি, নদীর করাল গ্রাস থেকে আমাদের ঐতিহ্যবাহী ঢালী বাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা ও স্কুল রক্ষা পাবে। রক্ষা পাবে আমার গ্রাম। রক্ষা পাবে আমার প্রিয় মেহেন্দিগঞ্জের হাজার হাজার মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি, বাগান এবং প্রিয় স্মৃতিগুলো।

আমি বিশ্বাস করি, নদীভাঙন রোধের পাশাপাশি সঠিক পরিকল্পনা, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে মেহেন্দিগঞ্জ একদিন একটি সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় জনপদে পরিণত হবে।

মেহেন্দিগঞ্জ শুধু আমার জন্মভূমি নয়, এটি আমার আবেগ, আমার শিকড়, আমার স্মৃতি এবং আমার ভালোবাসা। এখানেই আমার বেড়ে ওঠা; এখানেই আমার স্কুল, কলেজ এবং জীবনের হাজারো স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এই মাটির প্রতিটি পথ, প্রতিটি গাছ, প্রতিটি নদীর ঢেউয়ের সঙ্গে আমার শৈশব ও জীবনের অসংখ্য গল্প জড়িয়ে আছে।

তাই মেহেন্দিগঞ্জকে আমি শুধু একটি উপজেলা হিসেবে দেখি না; দেখি আমার অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে।

নদী আমাদের জীবন দিয়েছে, আমাদের সভ্যতা গড়ে দিয়েছে। কিন্তু সেই নদী যেন আমাদের অস্তিত্ব কেড়ে না নেয়, এটাই আজ আমাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া।

আমি চাই, নদীর গ্রাসে হারিয়ে না গিয়ে আমার প্রিয় মেহেন্দিগঞ্জ নতুন করে বাঁচুক। মেহেন্দিগঞ্জের লক্ষ মানুষ নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখুক, এই হোক আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক: বেলাল হোসেন ঢালী, সিডনিপ্রবাসী শিক্ষা উদ্যোক্তা, সমাজকর্মী ও লেখক।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আমার প্রিয় মেহেন্দিগঞ্জ স্বপ্ন ও সম্ভাবনার ভবিষ্যৎ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image
আমার প্রিয় মেহেন্দিগঞ্জ: স্বপ্ন ও সম্ভাবনার ভবিষ্যৎবেলাল হোসেন ঢালীবিদেশ বাংলা | সিডনি, অস্ট্রেলিয়াপ্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬“ধান, নদী, খাল—এই তিনে বরিশাল”—প্রবাদটি যেন বরিশালের প্রকৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রার এক নিখুঁত প্রতিচ্ছবি। মেহেন্দিগঞ্জ বরিশাল জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। বরিশাল জেলা সদর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর দিকে অবস্থিত এই জনপদটি বাংলাদেশের অন্যতম নদীবেষ্টিত ও নদীসমৃদ্ধ অঞ্চল। এটি মূলত মেঘনাবেষ্টিত একটি বৃহৎ দ্বীপ উপজেলা। এর চারপাশ ও বুক চিরে মেঘনা, তেঁতুলিয়া, আড়িয়াল খাঁ, কালাবদর, ইলিশাসহ অসংখ্য নদ-নদী প্রবাহিত হয়েছে।প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর এই দ্বীপাঞ্চল। সুজলা-সুফলা, শ্যামল-সবুজে ঘেরা আমার প্রিয় মেহেন্দিগঞ্জের রয়েছে অপার সম্ভাবনা, রয়েছে সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের স্বপ্ন।কিন্তু এই সৌন্দর্যের পাশাপাশি মেহেন্দিগঞ্জবাসীর সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম নদীভাঙন। বছরের পর বছর নদীর অব্যাহত ভাঙনে মেহেন্দিগঞ্জের বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বসতবাড়ি, ফসলি জমি, বাগান, স্কুল, কলেজ ও সরকারি প্রতিষ্ঠান একে একে হারিয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের বহু বছরের স্মৃতি, শিকড় ও ভালোবাসার ঠিকানা। অনেক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে আজ যাযাবরের মতো জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে।প্রায় ১৫ বছর আগে আমি আমার গ্রামের বাড়িতে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন করে একটি বাড়ি নির্মাণ করি। তখন নদী আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ছিল। নদীভাঙনের কোনো আশঙ্কাই তখন আমাদের মনে ছিল না। কিন্তু গত কয়েক বছরে নদী ক্রমাগত ভাঙতে ভাঙতে আজ আমার সেই স্বপ্নের বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে এসে দাঁড়িয়েছে।এরই মধ্যে আমার প্রিয় গ্রামের প্রায় অর্ধেক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যে কোনো সময় আমার বহু স্বপ্ন, ভালোবাসা ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সেই শখের বাড়িটিও নদীর গ্রাসে হারিয়ে যেতে পারে।শুধু আমার বাড়িই নয়, নদীভাঙনের আশঙ্কায় রয়েছে আমাদের এলাকার ঐতিহ্য ও স্মৃতির অনেক নিদর্শন। আমাদের ঐতিহ্যবাহী ঢালীর হাট, ঢালীরহাট জামে মসজিদ, আমার নিজের হাতে গড়ে তোলা আব্দুর রব ঢালী ফোরকানিয়া মাদ্রাসা এবং বাড়ির দরজায় অবস্থিত খন্তাখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়—এসব শুধু স্থাপনা নয়; এগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রজন্মের পর প্রজন্মের স্মৃতি, আবেগ ও পরিচয়।এসব কিছু চোখের সামনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা একজন মানুষের জন্য কতটা বেদনাদায়ক, তা হয়তো কেবল সেই মানুষই অনুভব করতে পারেন, যিনি নিজের শিকড়কে নদীর স্রোতে হারিয়ে যেতে দেখেছেন।শুধু আমি নই, এটি আজ মেহেন্দিগঞ্জের হাজার হাজার মানুষের বাস্তবতা। নদী যদি এভাবেই ভাঙতে থাকে, তাহলে আগামী কয়েক বছরে মেহেন্দিগঞ্জের আরও একটি বড় অংশ নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এমনকি একসময় আমার প্রিয় মেহেন্দিগঞ্জের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়তে পারে।আমি জানি, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নদীভাঙন রোধ করা অত্যন্ত কঠিন ও ব্যয়বহুল কাজ। একটি বিশাল নদীর গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ নয়। তবুও আশার কথা হলো, মেহেন্দিগঞ্জের নদীভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এ জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে হয় আমাদের মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলার মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব রাজীব আহসানকে। নির্বাচনের সময় তিনি মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলার মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা নদীভাঙন রোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। মেহেন্দিগঞ্জের নদীভাঙন রোধে একনেক থেকে প্রায় ৭৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়ার পর তা যথাসময়ে ও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন। নির্বাচনের মাত্র ছয় মাসের মাথায় টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জমি অধিগ্রহণ এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে ব্লক তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।আশা করি, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে নদীতীরে ব্লক ফেলার কাজ শুরু হবে। আর সেই দিনটি হবে মেহেন্দিগঞ্জবাসীর জন্য নতুন আশার দিন, নদীর সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকার নতুন প্রত্যয়ের দিন।মেহেন্দিগঞ্জের নদীভাঙন নিয়ে লিখতে গেলে আরেকটি নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করতেই হয়—বিশিষ্ট আইনজীবী ও সমাজকর্মী অ্যাডভোকেট এম. হেলাল উদ্দিন। মেহেন্দিগঞ্জের নদীভাঙন রোধে তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা ও অবদান স্বীকার না করে উপায় নেই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দিন-রাত পরিশ্রম করে নদীভাঙন রোধে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর এই ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।আমি স্বপ্ন দেখি, নদীর করাল গ্রাস থেকে আমাদের ঐতিহ্যবাহী ঢালী বাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা ও স্কুল রক্ষা পাবে। রক্ষা পাবে আমার গ্রাম। রক্ষা পাবে আমার প্রিয় মেহেন্দিগঞ্জের হাজার হাজার মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি, বাগান এবং প্রিয় স্মৃতিগুলো।আমি বিশ্বাস করি, নদীভাঙন রোধের পাশাপাশি সঠিক পরিকল্পনা, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে মেহেন্দিগঞ্জ একদিন একটি সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় জনপদে পরিণত হবে।মেহেন্দিগঞ্জ শুধু আমার জন্মভূমি নয়, এটি আমার আবেগ, আমার শিকড়, আমার স্মৃতি এবং আমার ভালোবাসা। এখানেই আমার বেড়ে ওঠা; এখানেই আমার স্কুল, কলেজ এবং জীবনের হাজারো স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এই মাটির প্রতিটি পথ, প্রতিটি গাছ, প্রতিটি নদীর ঢেউয়ের সঙ্গে আমার শৈশব ও জীবনের অসংখ্য গল্প জড়িয়ে আছে।তাই মেহেন্দিগঞ্জকে আমি শুধু একটি উপজেলা হিসেবে দেখি না; দেখি আমার অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে।নদী আমাদের জীবন দিয়েছে, আমাদের সভ্যতা গড়ে দিয়েছে। কিন্তু সেই নদী যেন আমাদের অস্তিত্ব কেড়ে না নেয়, এটাই আজ আমাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া।আমি চাই, নদীর গ্রাসে হারিয়ে না গিয়ে আমার প্রিয় মেহেন্দিগঞ্জ নতুন করে বাঁচুক। মেহেন্দিগঞ্জের লক্ষ মানুষ নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখুক, এই হোক আমাদের প্রত্যাশা।লেখক: বেলাল হোসেন ঢালী, সিডনিপ্রবাসী শিক্ষা উদ্যোক্তা, সমাজকর্মী ও লেখক।

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
আমার প্রিয় মেহেন্দিগঞ্জ স্বপ্ন ও সম্ভাবনার ভবিষ্যৎ
0:00 0:00
1.0x