জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
সারাদেশ

সারাদেশ

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের দাসেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান।

পিলার-ছাদে কংক্রিট খসে বেরিয়ে পড়েছে রড, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান

পিলার-ছাদে কংক্রিট খসে বেরিয়ে পড়েছে রড, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান

পিলার-ছাদে কংক্রিট খসে বেরিয়ে পড়েছে রড, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের দাসেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান।

 বিদ্যালয়ের তিনটি ভবনের মধ্যে দুটি ভবনই দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পিলার ও ছাদের কংক্রিট খসে লোহার রড বেরিয়ে এসেছে। দেয়াল ও পিলারজুড়ে দেখা দিয়েছে ফাটল ও ক্ষয়ের চিহ্ন। বিভিন্ন সময় ভবনের বিভিন্ন অংশের কংক্রিট খসে পড়ায় আতঙ্কের মধ্যে পাঠ নিতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের ১৯৭ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রুতি রানী দাস বলে, ‘প্রতিদিন স্কুলে আসি পড়াশোনা করে বড় হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু আমাদের স্কুলের ভবনের অবস্থা দেখে মাঝে মাঝে ভয় লাগে। পিলারের কংক্রিট খসে রড বের হয়ে গেছে। ছাদ থেকেও কংক্রিটের আস্তরণ খসে রড বেরিয়ে গেছে। মাঝে মধ্যে ছাদ ও ভবনের বিভিন্ন অংশের কংক্রিট ভেঙে পড়ে। ঝড়-বৃষ্টি হলে আরও ভয় লাগে। ভবনটি যদি ভেঙে পড়ে! আমরা তো ছোট, আমাদের জন্য একটা নিরাপদ স্কুল চাই।’

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দাসেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৯৭ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। বিদ্যালয়ের তিনটি ভবনের মধ্যে পুরোনো দুটি ভবন দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভবনের পিলার, ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশের পলেস্তারা ও কংক্রিট খসে পড়েছে। কোথাও কোথাও রড বেরিয়ে মরিচা ধরেছে। ছাদ ও পিলারের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে ভবনের ভেতরের লোহার রড।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভবনের এমন বেহাল অবস্থা থাকলেও কার্যকর সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে ক্লাস করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে ও ঝড়-বৃষ্টির সময় আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। কখন ভবনের কোনো অংশ ভেঙে পড়ে, সেই শঙ্কায় থাকতে হয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, শ্রেণিকক্ষে বসে পড়াশোনা করার সময় অনেক সময় ছাদ ও পিলারের দিকে তাকালে ভয় লাগে। কংক্রিট খসে পড়ার কারণে শ্রেণিকক্ষের পরিবেশও স্বাভাবিক নেই। নিরাপদ ভবন না থাকায় তাদের মনোযোগও ব্যাহত হচ্ছে।

অভিভাবকরা জানান, সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাতে হয়। কিন্তু স্কুল ভবনের বর্তমান অবস্থা দেখে তারা উদ্বিগ্ন। কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিশুদের জন্য নিরাপদ ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার জায়গা। অথচ দাসেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনগুলো এখন শিক্ষার্থীদের কাছে নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, ভবনের অবস্থা নিয়ে তারা নিজেরাও উদ্বিগ্ন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার কিংবা নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত বিদ্যালয় ভবনের কারিগরি পরিদর্শন করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিশুদের জীবনের ঝুঁকি কমিয়ে একটি নিরাপদ ও সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পিলার-ছাদে কংক্রিট খসে বেরিয়ে পড়েছে রড, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image
পিলার-ছাদে কংক্রিট খসে বেরিয়ে পড়েছে রড, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদানফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের দাসেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। বিদ্যালয়ের তিনটি ভবনের মধ্যে দুটি ভবনই দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পিলার ও ছাদের কংক্রিট খসে লোহার রড বেরিয়ে এসেছে। দেয়াল ও পিলারজুড়ে দেখা দিয়েছে ফাটল ও ক্ষয়ের চিহ্ন। বিভিন্ন সময় ভবনের বিভিন্ন অংশের কংক্রিট খসে পড়ায় আতঙ্কের মধ্যে পাঠ নিতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের ১৯৭ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের।পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রুতি রানী দাস বলে, ‘প্রতিদিন স্কুলে আসি পড়াশোনা করে বড় হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু আমাদের স্কুলের ভবনের অবস্থা দেখে মাঝে মাঝে ভয় লাগে। পিলারের কংক্রিট খসে রড বের হয়ে গেছে। ছাদ থেকেও কংক্রিটের আস্তরণ খসে রড বেরিয়ে গেছে। মাঝে মধ্যে ছাদ ও ভবনের বিভিন্ন অংশের কংক্রিট ভেঙে পড়ে। ঝড়-বৃষ্টি হলে আরও ভয় লাগে। ভবনটি যদি ভেঙে পড়ে! আমরা তো ছোট, আমাদের জন্য একটা নিরাপদ স্কুল চাই।’বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দাসেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৯৭ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। বিদ্যালয়ের তিনটি ভবনের মধ্যে পুরোনো দুটি ভবন দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভবনের পিলার, ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশের পলেস্তারা ও কংক্রিট খসে পড়েছে। কোথাও কোথাও রড বেরিয়ে মরিচা ধরেছে। ছাদ ও পিলারের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে ভবনের ভেতরের লোহার রড।শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভবনের এমন বেহাল অবস্থা থাকলেও কার্যকর সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে ক্লাস করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে ও ঝড়-বৃষ্টির সময় আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। কখন ভবনের কোনো অংশ ভেঙে পড়ে, সেই শঙ্কায় থাকতে হয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের।বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, শ্রেণিকক্ষে বসে পড়াশোনা করার সময় অনেক সময় ছাদ ও পিলারের দিকে তাকালে ভয় লাগে। কংক্রিট খসে পড়ার কারণে শ্রেণিকক্ষের পরিবেশও স্বাভাবিক নেই। নিরাপদ ভবন না থাকায় তাদের মনোযোগও ব্যাহত হচ্ছে।অভিভাবকরা জানান, সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাতে হয়। কিন্তু স্কুল ভবনের বর্তমান অবস্থা দেখে তারা উদ্বিগ্ন। কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিশুদের জন্য নিরাপদ ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার জায়গা। অথচ দাসেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনগুলো এখন শিক্ষার্থীদের কাছে নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, ভবনের অবস্থা নিয়ে তারা নিজেরাও উদ্বিগ্ন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার কিংবা নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত বিদ্যালয় ভবনের কারিগরি পরিদর্শন করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিশুদের জীবনের ঝুঁকি কমিয়ে একটি নিরাপদ ও সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
পিলার-ছাদে কংক্রিট খসে বেরিয়ে পড়েছে রড, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান
0:00 0:00
1.0x