সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের আহমদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছুটির পর শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ, ফ্যান-লাইটে হাত দেওয়া এবং বিভিন্ন স্থাপনায় ওঠানামার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের বিষয়টি নজরে আসার পর তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সরকারি সম্পদ সুরক্ষায় আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময়ের পরও স্থানীয় কিছু শিশু বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে খেলাধুলা করে। এ সময় তারা বিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনা ও সরঞ্জামে ওঠানামা করার চেষ্টা করে। এমনকি জাতীয় পতাকা টাঙানোর জন্য স্থাপিত খুঁটি বা লোহার নল বেয়ে ওপরে ওঠার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডেও শিশুদের জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নজরে আসে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ফ্যান, লাইট, জানালা, দরজা কিংবা অন্যান্য স্থাপনা ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
প্রধান শিক্ষকের তাৎক্ষণিক উদ্যোগ
বিষয়টি নজরে আসার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং বিদ্যালয়ের সরকারি সম্পদ রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অভিভাবকদেরও বিষয়টি অবহিত করা হয়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে এটি কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীকে একতরফাভাবে দায়ী করার বিষয় নয়। বরং স্কুলের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর শিশুদের বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতা ও নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ, স্কুল ছুটির পর কোনো শিশু কোথায় যাচ্ছে, কী করছে এবং কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, এ বিষয়ে পরিবারের নজরদারি থাকা প্রয়োজন। ছোট শিশুরা অনেক সময় ঝুঁকি বুঝতে না পেরে কৌতূহলবশত ফ্যান-লাইটে হাত দিতে পারে, খুঁটি বা গ্রিল বেয়ে উঠতে পারে কিংবা বিদ্যালয়ের কোনো স্থাপনায় খেলাধুলা করতে পারে। এসব ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ঘটলে তা শুধু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই; অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শিক্ষকরা কি সারাক্ষণ স্কুলের বাইরে থাকা শিশুদের দায়িত্ব নেবেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নির্ধারিত শিক্ষা কার্যক্রম চলাকালীন শিক্ষার্থীদের দেখভাল ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু স্কুল ছুটির পর শিশুরা অভিভাবকের তত্ত্বাবধানের বাইরে গিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলে প্রতিটি শিশুর গতিবিধি সারাক্ষণ পর্যবেক্ষণ করা শিক্ষকদের পক্ষে বাস্তবসম্মত নয়।
বিশেষ করে ছুটির দিন বা বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ের বাইরে শিশুদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশের বিষয়টি প্রতিরোধে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্বও রয়েছে।
তাই বিদ্যালয়ের কোনো ফ্যান বা লাইট ছুটির পর সচল থাকা, কোনো স্থাপনায় শিশুদের ওঠানামা করা কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ খেলাধুলার ঘটনা ঘটলে প্রথমেই দোষারোপ না করে, কীভাবে বিষয়টি প্রতিরোধ করা যায়, সেটিই হওয়া উচিত মূল আলোচনার বিষয়।
অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, সন্তানরা স্কুল ছুটির পর কোথায় যাচ্ছে এবং কী করছে, সে বিষয়ে নজর রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই তাদের বিদ্যালয়ের খুঁটি, গ্রিল, জানালা, ছাদ বা অন্যান্য স্থাপনায় ওঠার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ফ্যান, লাইট বা অন্যান্য সরকারি সম্পদে হাত না দেওয়ার বিষয়েও শিশুদের সচেতন করতে হবে।
নজরদারি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত।
অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে।
- বিদ্যালয় ছুটির পর অপ্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের প্রাঙ্গণে প্রবেশ নিরুৎসাহিত করা।
- ফ্যান, লাইটসহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ আছে কি না, তা নিশ্চিত করা।
- ছুটির আগে শ্রেণিকক্ষের দরজা-জানালা যথাযথভাবে বন্ধ করা।
- পতাকা টাঙানোর খুঁটি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনায় ওঠা থেকে শিশুদের বিরত রাখতে সতর্কতা বাড়ানো।
- দীর্ঘ ছুটির সময়ে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও সরকারি সম্পদের বিষয়ে বাড়তি নজর রাখা।
- অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে শিশুদের স্কুল-পরবর্তী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সচেতন করা।
দায়িত্ব শুধু বিদ্যালয়ের নয়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে স্কুল ছুটির পর শিশুরা বিদ্যালয়ের বাইরে বা প্রাঙ্গণে কী করছে, তা নিয়েও অভিভাবকদের দায়িত্বশীল হতে হবে।
আহমদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাকে তাই কাউকে দোষারোপের বিষয় হিসেবে না দেখে শিশুদের নিরাপত্তা, অভিভাবকদের সচেতনতা এবং সরকারি সম্পদ রক্ষার যৌথ দায়িত্ব হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধান শিক্ষকের তাৎক্ষণিক উদ্যোগ ও আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। এখন বিদ্যালয়ের পাশাপাশি অভিভাবকরাও যদি সন্তানদের স্কুল-পরবর্তী কর্মকাণ্ডে নজর রাখেন, তাহলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন কমবে, তেমনি বিদ্যালয়ের সরকারি সম্পদও সুরক্ষিত থাকবে।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত