সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে পুলিশের হেফাজত থেকে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় এক আসামি পালিয়ে যাওয়ার পর ফেসবুক লাইভে উপস্থিত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি পুলিশের হেফাজত ও আসামির নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বুধবার রাতে শান্তিগঞ্জ উপজেলার দামোধরদী পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে আসির মিয়া নামে ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে থানায় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় পুলিশের হেফাজত থেকে সুযোগ বুঝে তিনি পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।
চাঞ্চল্যের বিষয় হলো, পুলিশের কাছ থেকে পালানোর পরও আসির মিয়ার হাতে হ্যান্ডকাফ ছিল। এর কিছুক্ষণ পরই তাকে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে আসতে দেখা যায়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, হ্যান্ডকাফ পরা একজন আসামি পুলিশের হেফাজত থেকে কীভাবে পালিয়ে গেলেন। পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি কীভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ফেসবুক লাইভে এলেন। ওই সময় তার অবস্থান শনাক্ত বা তাকে আটকাতে পুলিশের তৎপরতায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না। এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার পর পুলিশের দায়িত্ব, হেফাজত ব্যবস্থা ও আসামি পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। বিশেষ করে একজন গ্রেপ্তার আসামি হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে থাকা সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে পলাতক আসামি আসির মিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটির প্রকৃত কারণ কী, দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের গাফিলতি ছিল কি না এবং হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় পালানোর পর আসামি কীভাবে নির্বিঘ্নে ফেসবুক লাইভে এলেন। এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত