দেশজুড়ে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে এখন সিট পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা সেবা নিয়ে দীর্ঘ লাইন এবং বেডের অভাবে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র হাহাকার। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, জনসচেতনতার অভাব এবং পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি থাকলে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।
হাসপাতালের বর্তমান চিত্র
রাজধানীর প্রধান সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে গত কয়েকদিন থেকে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। শয্যার অভাবে অনেক রোগীকে করিডোর বা ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক জানান, "প্রতিদিন গড়ে শতাধিক নতুন ডেঙ্গু রোগী আসছেন। কিন্তু আমাদের বেড ক্যাপাসিটি সীমিত। ফলে জরুরি বিভাগে চাপ বাড়ছে।"
সচেতনতার অভাবই মূল সমস্যা?
চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসা সেবা যথেষ্ট নয়, বরং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাই মুখ্য। কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো, অধিকাংশ মানুষ এখনও সচেতন নন। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, টবের পানি কিংবা অফিস-আদালতের অবহেলিত স্থানে জমা পানি অপসারণ করা হচ্ছে না। এই অবহেলাই মশার বংশবৃদ্ধি ঘটাচ্ছে এবং রোগ ছড়াচ্ছে।
সবার প্রতি আহ্বান: আসুন ঐক্যবদ্ধ হই
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে নাগরিক সমাজ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও সামাজিক দায়িত্ব পালন জরুরি।
১. বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখুন: প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার বাড়ির ছাদ, টবের প্লেট, ফুলদানি এবং অন্যত্র জমা পানি ফেলে দিন বা শুকিয়ে রাখুন।
২. অফিস-আদালত সচেতন করুন: কর্মক্ষেত্রে আবর্জনা ও জমা পানি মুক্ত রাখুন। সহকর্মীদের সচেতন করুন।
৩. নিজে সুরক্ষিত থাকুন: মশার কামড় থেকে বাঁচতে হাত-পা ঢাকা পোশাক পরুন এবং মশারোধী ক্রিম বা কয়েল ব্যবহার করুন।
৪. লক্ষণ দেখলে দেরি করবেন না: হঠাৎ জ্বর, মাথাব্যথা বা চোখের পেছনে ব্যথা অনুভব করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
উপসংহার
ডেঙ্গু কোনো সাধারণ জ্বর নয়, এটি জীবনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। হাসপাতালের বেড খালি করার চেয়ে বাড়ির আঙিনা থেকে মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করা বেশি কার্যকর। তাই আসুন, আমরা সবাই মিলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখি এবং ডেঙ্গুমুক্ত একটি নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলি। সতর্কতাই এখন একমাত্র প্রতিরোধ।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত