জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
সারাদেশ

সারাদেশ

নগরবাসী, তদন্তের দাবি

ফেনীতে অটোরিকশার দাপট, লাভের টাকা কার পকেটে—রাজস্ব হারাচ্ছে রাষ্ট্র?

ফেনীতে অটোরিকশার দাপট, লাভের টাকা কার পকেটে—রাজস্ব হারাচ্ছে রাষ্ট্র?

ফেনীতে অটোরিকশার দাপট, লাভের টাকা কার পকেটে—রাজস্ব হারাচ্ছে রাষ্ট্র?

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অবৈধ বিনিয়োগ ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ; ট্রাং রোড-এসএসকে রোডে যানজটে নাকাল নগরবাসী, তদন্তের দাবি

ফেনী শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। শহরের প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি—সবখানেই এখন অটোরিকশার দাপট। কোথাও সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে, কোথাও যাত্রী ওঠানামার নামে সড়কের বড় অংশ দখল করে রাখা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন যানজট ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে এই বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরকার কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব পাচ্ছে কি না—তা নিয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, ফেনীর অটোরিকশা বাণিজ্যে মূলত তিনটি পক্ষ সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে—অটোরিকশার মালিক বা বিনিয়োগকারী, চার্জিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালচক্র। অথচ এসব যানবাহন প্রতিদিন সরকারি সড়ক ব্যবহার করলেও এর বিপরীতে রাষ্ট্রের কোষাগারে কত টাকা রাজস্ব যাচ্ছে, তার স্বচ্ছ হিসাব জনসম্মুখে নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।

‘অটোরিকশা নামাতে’ রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু রাজনৈতিক ব্যক্তির ছত্রছায়ায় কথিত বিনিয়োগকারীরা দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এনে ফেনী শহর ও আশপাশের এলাকায় অটোরিকশা নামাচ্ছেন।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন—কারা এসব অটোরিকশার প্রকৃত মালিক? বিনিয়োগের অর্থ কোথা থেকে আসছে? কারা এর নিয়ন্ত্রণ করছে? এবং কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে তার সঙ্গে কারা জড়িত?

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকৃত মালিকানা, বিনিয়োগের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি উঠেছে।

চার্জিং ব্যবসায় মাসে লাখ লাখ টাকার লেনদেন?

অটোরিকশার চার্জিং ব্যবসা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিটি অটোরিকশা থেকে চার্জ দেওয়ার নামে মাসিক প্রায় ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।

ধরা যাক, কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের আওতায় ১০০টি অটোরিকশা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে মাসে প্রায় ৩ লাখ টাকা এবং বছরে প্রায় ৩৬ লাখ টাকার লেনদেন হতে পারে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, এই বিপুল অর্থের লেনদেনের ক্ষেত্রে সরকারি রাজস্ব, কর বা বৈধ হিসাব কতটা রয়েছে? সংশ্লিষ্ট চার্জিং প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব, ব্যবসায়িক বৈধতা এবং কর পরিশোধের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ট্রাং রোড-এসএসকে রোডে অটোরিকশার জট

ফেনী শহরের ট্রাং রোড, এসএসকে রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলোতে অটোরিকশা যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে থাকায় পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নগরবাসী।

কখনো রাস্তার পাশে, কখনো সড়কের ওপর অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলার কারণে যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। ব্যস্ত সময়ে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ পথচারীদের ভোগান্তি বাড়ছে।

সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, অটোরিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে ফেনী শহরের সড়ক ব্যবস্থাপনা আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

নিষিদ্ধের দাবি মানবাধিকার সংগঠনের

ফেনী শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা সংস্থার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক জনাব আবুল কাশেম এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সহকারী যুগ্ম মহাসচিব ও ফেনী জেলা আঞ্চলিক পরিচালক মোহাম্মদ হানিফ।

তারা ফেনী জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ট্রাং রোড, এসএসকে রোডসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অটোরিকশা চলাচল ও যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

তাদের মতে, সড়কে অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে যানজট ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে। তাই জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নির্দিষ্ট রুট ও স্ট্যান্ড নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

শুধু অটোরিকশা নয়, তদন্ত হোক পুরো বাণিজ্যের

সচেতন নাগরিকদের দাবি, বিষয়টি শুধু সড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। এর সঙ্গে জড়িত পুরো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা দরকার।

তাদের মতে, ফেনীতে মোট কতটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলছে, এর মধ্যে কতটি বৈধভাবে নিবন্ধিত, কতটি অনুমোদনহীন এবং প্রতিদিন বা মাসে এই খাত থেকে কী পরিমাণ অর্থ লেনদেন হচ্ছে—তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রকাশ করা জরুরি।

একই সঙ্গে অটোরিকশার মালিকানা, বিনিয়োগের উৎস, চার্জিং ব্যবসার আয়, মাসিক আদায়, কর ও রাজস্ব পরিশোধ এবং কোনো ধরনের অবৈধ চাঁদা আদায় হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

‘অটোরিকশার পক্ষে’ আন্দোলন হলেও ব্যবস্থা চায় সচেতন মহল

অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়ার পর কোনো পক্ষ রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব খাটিয়ে রাজপথে নেমে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

তাদের বক্তব্য, জনস্বার্থে নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বাধাগ্রস্ত করার সুযোগ থাকা উচিত নয়। তবে একই সঙ্গে অটোরিকশার প্রকৃত চালক ও শ্রমিকদের জীবিকার বিষয়টিও মানবিকভাবে বিবেচনা করতে হবে।

তাদের প্রস্তাব—অবৈধ মালিকানা, দালালচক্র ও কথিত চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত চালকদের নিবন্ধনের আওতায় এনে নির্দিষ্ট রুট, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিচালনা ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।

প্রশ্ন একটাই—লাভবান কারা, রাজস্ব পাচ্ছে কে?

ফেনীর অটোরিকশা খাতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হচ্ছে—এমন ধারণা স্থানীয়দের। কিন্তু এই অর্থনীতির প্রকৃত সুবিধাভোগী কারা এবং রাষ্ট্র এর বিনিময়ে কী পাচ্ছে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

সরকারি সড়ক ব্যবহার করে পরিচালিত একটি বড় পরিবহন খাত যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে, তাহলে একদিকে যেমন সড়ক নিরাপত্তা ও জনদুর্ভোগের সমস্যা তৈরি হয়, অন্যদিকে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হতে পারে।

সচেতন মহলের মতে, বিষয়টিকে কোনো ব্যক্তি, দল বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ হিসেবে না দেখে সরকারি রাজস্ব, সড়ক নিরাপত্তা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বার্থের বিষয় হিসেবে দেখা উচিত।

তাই ফেনীর অটোরিকশা খাতে প্রকৃত মালিকানা, বিনিয়োগের উৎস, চার্জিং ব্যবসার আর্থিক লেনদেন, মাসিক আদায়, কর-রাজস্ব এবং কথিত চাঁদাবাজির অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি এখন জোরালো হচ্ছে।

প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত তদন্তে যদি অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বৈধ অটোরিকশা ও প্রকৃত চালকদের জন্য একটি স্বচ্ছ ও টেকসই ব্যবস্থাপনা চালুর দাবি জানিয়েছেন ফেনীর সচেতন নাগরিকরা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ফেনীতে অটোরিকশার দাপট, লাভের টাকা কার পকেটে—রাজস্ব হারাচ্ছে রাষ্ট্র?

প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
ফেনীতে অটোরিকশার দাপট, লাভের টাকা কার পকেটে—রাজস্ব হারাচ্ছে রাষ্ট্র?রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অবৈধ বিনিয়োগ ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ; ট্রাং রোড-এসএসকে রোডে যানজটে নাকাল নগরবাসী, তদন্তের দাবিফেনী শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। শহরের প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি—সবখানেই এখন অটোরিকশার দাপট। কোথাও সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে, কোথাও যাত্রী ওঠানামার নামে সড়কের বড় অংশ দখল করে রাখা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন যানজট ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে এই বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরকার কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব পাচ্ছে কি না—তা নিয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন।স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, ফেনীর অটোরিকশা বাণিজ্যে মূলত তিনটি পক্ষ সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে—অটোরিকশার মালিক বা বিনিয়োগকারী, চার্জিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালচক্র। অথচ এসব যানবাহন প্রতিদিন সরকারি সড়ক ব্যবহার করলেও এর বিপরীতে রাষ্ট্রের কোষাগারে কত টাকা রাজস্ব যাচ্ছে, তার স্বচ্ছ হিসাব জনসম্মুখে নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।‘অটোরিকশা নামাতে’ রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগঅভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু রাজনৈতিক ব্যক্তির ছত্রছায়ায় কথিত বিনিয়োগকারীরা দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এনে ফেনী শহর ও আশপাশের এলাকায় অটোরিকশা নামাচ্ছেন।স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন—কারা এসব অটোরিকশার প্রকৃত মালিক? বিনিয়োগের অর্থ কোথা থেকে আসছে? কারা এর নিয়ন্ত্রণ করছে? এবং কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে তার সঙ্গে কারা জড়িত?তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকৃত মালিকানা, বিনিয়োগের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি উঠেছে।চার্জিং ব্যবসায় মাসে লাখ লাখ টাকার লেনদেন?অটোরিকশার চার্জিং ব্যবসা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিটি অটোরিকশা থেকে চার্জ দেওয়ার নামে মাসিক প্রায় ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।ধরা যাক, কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের আওতায় ১০০টি অটোরিকশা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে মাসে প্রায় ৩ লাখ টাকা এবং বছরে প্রায় ৩৬ লাখ টাকার লেনদেন হতে পারে।স্থানীয়দের প্রশ্ন, এই বিপুল অর্থের লেনদেনের ক্ষেত্রে সরকারি রাজস্ব, কর বা বৈধ হিসাব কতটা রয়েছে? সংশ্লিষ্ট চার্জিং প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব, ব্যবসায়িক বৈধতা এবং কর পরিশোধের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।ট্রাং রোড-এসএসকে রোডে অটোরিকশার জটফেনী শহরের ট্রাং রোড, এসএসকে রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলোতে অটোরিকশা যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে থাকায় পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নগরবাসী।কখনো রাস্তার পাশে, কখনো সড়কের ওপর অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলার কারণে যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। ব্যস্ত সময়ে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ পথচারীদের ভোগান্তি বাড়ছে।সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, অটোরিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে ফেনী শহরের সড়ক ব্যবস্থাপনা আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।নিষিদ্ধের দাবি মানবাধিকার সংগঠনেরফেনী শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা সংস্থার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক জনাব আবুল কাশেম এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সহকারী যুগ্ম মহাসচিব ও ফেনী জেলা আঞ্চলিক পরিচালক মোহাম্মদ হানিফ।তারা ফেনী জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ট্রাং রোড, এসএসকে রোডসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অটোরিকশা চলাচল ও যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।তাদের মতে, সড়কে অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে যানজট ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে। তাই জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নির্দিষ্ট রুট ও স্ট্যান্ড নির্ধারণ করা প্রয়োজন।শুধু অটোরিকশা নয়, তদন্ত হোক পুরো বাণিজ্যেরসচেতন নাগরিকদের দাবি, বিষয়টি শুধু সড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। এর সঙ্গে জড়িত পুরো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা দরকার।তাদের মতে, ফেনীতে মোট কতটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলছে, এর মধ্যে কতটি বৈধভাবে নিবন্ধিত, কতটি অনুমোদনহীন এবং প্রতিদিন বা মাসে এই খাত থেকে কী পরিমাণ অর্থ লেনদেন হচ্ছে—তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রকাশ করা জরুরি।একই সঙ্গে অটোরিকশার মালিকানা, বিনিয়োগের উৎস, চার্জিং ব্যবসার আয়, মাসিক আদায়, কর ও রাজস্ব পরিশোধ এবং কোনো ধরনের অবৈধ চাঁদা আদায় হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।‘অটোরিকশার পক্ষে’ আন্দোলন হলেও ব্যবস্থা চায় সচেতন মহলঅটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়ার পর কোনো পক্ষ রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব খাটিয়ে রাজপথে নেমে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।তাদের বক্তব্য, জনস্বার্থে নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বাধাগ্রস্ত করার সুযোগ থাকা উচিত নয়। তবে একই সঙ্গে অটোরিকশার প্রকৃত চালক ও শ্রমিকদের জীবিকার বিষয়টিও মানবিকভাবে বিবেচনা করতে হবে।তাদের প্রস্তাব—অবৈধ মালিকানা, দালালচক্র ও কথিত চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত চালকদের নিবন্ধনের আওতায় এনে নির্দিষ্ট রুট, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিচালনা ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।প্রশ্ন একটাই—লাভবান কারা, রাজস্ব পাচ্ছে কে?ফেনীর অটোরিকশা খাতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হচ্ছে—এমন ধারণা স্থানীয়দের। কিন্তু এই অর্থনীতির প্রকৃত সুবিধাভোগী কারা এবং রাষ্ট্র এর বিনিময়ে কী পাচ্ছে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।সরকারি সড়ক ব্যবহার করে পরিচালিত একটি বড় পরিবহন খাত যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে, তাহলে একদিকে যেমন সড়ক নিরাপত্তা ও জনদুর্ভোগের সমস্যা তৈরি হয়, অন্যদিকে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হতে পারে।সচেতন মহলের মতে, বিষয়টিকে কোনো ব্যক্তি, দল বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ হিসেবে না দেখে সরকারি রাজস্ব, সড়ক নিরাপত্তা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বার্থের বিষয় হিসেবে দেখা উচিত।তাই ফেনীর অটোরিকশা খাতে প্রকৃত মালিকানা, বিনিয়োগের উৎস, চার্জিং ব্যবসার আর্থিক লেনদেন, মাসিক আদায়, কর-রাজস্ব এবং কথিত চাঁদাবাজির অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি এখন জোরালো হচ্ছে।প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত তদন্তে যদি অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বৈধ অটোরিকশা ও প্রকৃত চালকদের জন্য একটি স্বচ্ছ ও টেকসই ব্যবস্থাপনা চালুর দাবি জানিয়েছেন ফেনীর সচেতন নাগরিকরা।

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
ফেনীতে অটোরিকশার দাপট, লাভের টাকা কার পকেটে—রাজস্ব হারাচ্ছে রাষ্ট্র?
0:00 0:00
1.0x