জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
সারাদেশ

সারাদেশ

ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই নৌ পুলিশের এসআই আব্দুল মান্নান ক্লোজড

স্ত্রীর সঙ্গে কলহের জেরে মদপান, প্রকাশ্যে মাতলামি

স্ত্রীর সঙ্গে কলহের জেরে মদপান, প্রকাশ্যে মাতলামি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে খেয়াঘাটে গান-নাচ ও বিলাপ করতে দেখা যায় এসআই আব্দুল মান্নানকে।


পারিবারিক কলহের জেরে মদপান করে প্রকাশ্যে অসংলগ্ন আচরণ—এরপর সেই দৃশ্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ঘটনাটি নজরে আসতেই নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মান্নানকে ক্লোজড করেছে পুলিশ। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে সদর নৌ থানার সংলগ্ন সেন্ট্রাল খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের পোশাক পরা অবস্থায় এসআই আব্দুল মান্নান খেয়াঘাট এলাকায় মাটিতে বসে গান গাইছেন, নাচছেন এবং বিলাপ করছেন। তার কথাবার্তা ও আচরণে অসংলগ্নতা লক্ষ্য করেন স্থানীয়রা। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায়।

ভিডিওতে উপস্থিত লোকজনের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল মান্নান দাবি করেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে তার স্ত্রী তাকে মারধর করেছেন। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও মানসিক কষ্ট থেকেই তিনি মদপান করেছেন বলে জানান তিনি।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশ্ন ওঠে—একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার এমন আচরণের পেছনে কী ঘটেছিল? পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি কতটা সত্য, আর দায়িত্ব পালনের সময় তার আচরণে এর প্রভাব পড়েছিল কি না—এসব বিষয়ও এখন তদন্তের আওতায়।

সদর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এসআই আব্দুল মান্নানের অসংলগ্ন আচরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। পরে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে ক্লোজড করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক সমস্যার কারণে আব্দুল মান্নান দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে কষ্টে ছিলেন। তার চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরিবারের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, আব্দুল মান্নানের পুলিশি দায়িত্ব ও পূর্ববর্তী কর্মস্থল নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি এর আগে সুনামগঞ্জের জাউয়াবাজার তদন্ত কেন্দ্রে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তবে প্রকাশ্যে মদপান ও অসংলগ্ন আচরণের অভিযোগের পাশাপাশি তার পারিবারিক বিরোধের প্রকৃত কারণ কী, ঘটনার সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন কি না এবং পুলিশের আচরণবিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্ত শেষ হলে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


স্ত্রীর সঙ্গে কলহের জেরে মদপান, প্রকাশ্যে মাতলামি

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
পারিবারিক কলহের জেরে মদপান করে প্রকাশ্যে অসংলগ্ন আচরণ—এরপর সেই দৃশ্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ঘটনাটি নজরে আসতেই নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মান্নানকে ক্লোজড করেছে পুলিশ। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলছে।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে সদর নৌ থানার সংলগ্ন সেন্ট্রাল খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের পোশাক পরা অবস্থায় এসআই আব্দুল মান্নান খেয়াঘাট এলাকায় মাটিতে বসে গান গাইছেন, নাচছেন এবং বিলাপ করছেন। তার কথাবার্তা ও আচরণে অসংলগ্নতা লক্ষ্য করেন স্থানীয়রা। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায়।ভিডিওতে উপস্থিত লোকজনের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল মান্নান দাবি করেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে তার স্ত্রী তাকে মারধর করেছেন। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও মানসিক কষ্ট থেকেই তিনি মদপান করেছেন বলে জানান তিনি।ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশ্ন ওঠে—একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার এমন আচরণের পেছনে কী ঘটেছিল? পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি কতটা সত্য, আর দায়িত্ব পালনের সময় তার আচরণে এর প্রভাব পড়েছিল কি না—এসব বিষয়ও এখন তদন্তের আওতায়।সদর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এসআই আব্দুল মান্নানের অসংলগ্ন আচরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। পরে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে ক্লোজড করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক সমস্যার কারণে আব্দুল মান্নান দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে কষ্টে ছিলেন। তার চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরিবারের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে, আব্দুল মান্নানের পুলিশি দায়িত্ব ও পূর্ববর্তী কর্মস্থল নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি এর আগে সুনামগঞ্জের জাউয়াবাজার তদন্ত কেন্দ্রে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে প্রকাশ্যে মদপান ও অসংলগ্ন আচরণের অভিযোগের পাশাপাশি তার পারিবারিক বিরোধের প্রকৃত কারণ কী, ঘটনার সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন কি না এবং পুলিশের আচরণবিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্ত শেষ হলে।

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
স্ত্রীর সঙ্গে কলহের জেরে মদপান, প্রকাশ্যে মাতলামি
0:00 0:00
1.0x