বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ উপজেলার ২নং পঞ্চকরণ ইউনিয়নে মাদক সেবনকারীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে গোপনে ও প্রকাশ্যে মাদক ক্রয়-বিক্রয় চললেও তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেই।
*যেভাবে বাড়ছে মাদক*
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ইউনিয়নের বাজার সংলগ্ন এলাকা, ব্রিজের নিচ, পরিত্যক্ত ভবন এবং ফাঁকা মাঠগুলো মাদক সেবনের হটস্পট হয়ে উঠেছে। ইয়াবা, গাঁজা ও নেশাজাতীয় কাশির সিরাপ এখানে সহজলভ্য।
অভিভাবকরা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন তাদের সন্তানদের নিয়ে। কয়েকজন অভিভাবক বলেন, "স্কুল-কলেজের ছেলেরা আড্ডার নামে এসব জায়গায় যাচ্ছে। কয়েকজনকে নেশা করতেও দেখা গেছে। এখন পড়াশোনা বাদ দিয়ে নেশার টাকা জোগাড়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে।"
*অভিযোগ: প্রভাবশালীদের মদ*
এলাকার সচেতন নাগরিকদের দাবি, এই মাদক ব্যবসা কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে চালানো সম্ভব না। তাদের অভিযোগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এই চক্রকে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, "রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। *সাধারণ মানুষ ভয়ে লিখিত অভিযোগ করছে না।*"
*সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধ*
মাদকের সহজলভ্যতার কারণে এলাকায় সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে চুরি, ছিনতাই ও পরিবারের সাথে ঝগড়া-ঝাটির ঘটনা আগের চেয়ে বেড়েছে। ইউনিয়নের কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরাও শিক্ষার্থীদের মাঝে মাদকের কুপ্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
*এলাকাবাসীর ৪ দফা দাবি*
মাদক নির্মূলে পঞ্চকরণবাসী প্রশাসনের কাছে ৪টি দাবি জানিয়েছেন:
1. *মাদক স্পটগুলো চিহ্নিত* করে দ্রুত অভিযান
2. *নিয়মিত টহল* বৃদ্ধি ও গোয়েন্দা নজরদারি
3. *স্কুল-কলেজে সচেতনতা* সভা ও কাউন্সেলিং
4. *সমাজের সবাইকে নিয়ে* মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠন
ইউনিয়নের "জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম ও যুবসমাজ সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। শুধু আইনের উপর নির্ভর করলে হবে না, সামাজিকভাবেও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।"
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। পরিবার ও সমাজকে সচেতন না করলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
*শেষ কথা:*
পঞ্চকরণ ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করতে এখনই সময়োপযোগী পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত