জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
সারাদেশ

সারাদেশ

পাথরঘাটায় ট্রলার থেকে পড়ে জেলে নিখোঁজ, উত্তাল সাগরে চলছে সন্ধান

পাথরঘাটায় ট্রলার থেকে পড়ে জেলে নিখোঁজ, উত্তাল সাগরে চলছে সন্ধান

বরগুনার পাথরঘাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের বলেশ্বর নদীর মোহনায় মাছ ধরার সময় ট্রলার থেকে পড়ে শাহীন মিয়া (২৭) নামে এক জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতের কোনো একসময় তিনি ট্রলার থেকে সাগরে পড়ে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে জাল তোলার সময় তাঁকে ট্রলারে না পেয়ে সহকর্মীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

‎

‎নিখোঁজ শাহীন মিয়া পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার শাপলেজা ইউনিয়নের ভাইজোড়া এলাকার আলম মিয়ার ছেলে। তিনি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের দক্ষিণ চরদুয়ানী এলাকার ফুল মিয়ার মালিকানাধীন এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারে জেলে হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ট্রলারটিতে মোট ১০ জন জেলে ছিলেন বলে জানা গেছে।

‎

‎ট্রলার মালিক ও মাঝি ফুল মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জাল ফেলে জেলেরা ট্রলারে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ঝড়-বৃষ্টি ও বড় ঢেউ শুরু হয়। পরে সকালে জাল তোলার সময় সবাইকে ডাকাডাকি করা হলে শাহীনকে পাওয়া যায়নি। ট্রলারের ভেতর ও আশপাশে খোঁজ করেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি।

‎

‎ট্রলারে থাকা শাহিনের খালাতো ভাই আব্দুস সালাম জানান, ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে বড় বড় ঢেউ ও বজ্রপাত হচ্ছিল। পরে শাহীনকে দেখতে না পেয়ে তাঁরা ট্রলারের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেন। সাগরে ফেলে রাখা জাল কেটে টর্চলাইট ও সার্চলাইট দিয়েও চারপাশে দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান চালানো হয়। কিন্তু তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

‎

‎মাঝি গণি মিয়ার ধারণা, বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় শাহীন ট্রলার থেকে ছিটকে সাগরে পড়ে যেতে পারেন। তবে তিনি ঠিক কীভাবে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

‎

‎শাহীন নিখোঁজ হওয়ার খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর তাঁর স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর উৎকণ্ঠা। সাগরে পড়ে যাওয়ার পর থেকে তাঁর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের সদস্যরা এখনো আশায় বুক বেঁধে আছেন—হয়তো কোনোভাবে বেঁচে আছেন শাহীন, দ্রুত উদ্ধার হয়ে ফিরবেন আপনজনদের কাছে।

‎

‎স্বজন ও সহকর্মীরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। উপকূলে ফিরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়ন, কোস্ট গার্ড ও ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়েছে। 

‎

‎বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে জেলেদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। শাহীন নিখোঁজ হওয়ার খবর তাঁরা পেয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

‎

‎পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল আলীম বলেন, জেলে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছেন। নিখোঁজ শাহিনের বাড়ি মঠবাড়িয়া উপজেলায় হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

‎

‎উত্তাল বঙ্গোপসাগরের বুকে এখনো অপেক্ষা—শাহীন কি ফিরবেন?

‎একদিকে সাগরে সহকর্মীদের উদ্বেগ আর অন্যদিকে তীরে স্বজনদের উৎকণ্ঠা। নিখোঁজ জেলে শাহীন মিয়াকে জীবিত উদ্ধারের আশায় প্রহর গুনছে তাঁর পরিবার। এখন দ্রুত ও কার্যকর উদ্ধার অভিযানই স্বজনদের একমাত্র প্রত্যাশা।

‎

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পাথরঘাটায় ট্রলার থেকে পড়ে জেলে নিখোঁজ, উত্তাল সাগরে চলছে সন্ধান

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
বরগুনার পাথরঘাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের বলেশ্বর নদীর মোহনায় মাছ ধরার সময় ট্রলার থেকে পড়ে শাহীন মিয়া (২৭) নামে এক জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতের কোনো একসময় তিনি ট্রলার থেকে সাগরে পড়ে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে জাল তোলার সময় তাঁকে ট্রলারে না পেয়ে সহকর্মীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।‎‎নিখোঁজ শাহীন মিয়া পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার শাপলেজা ইউনিয়নের ভাইজোড়া এলাকার আলম মিয়ার ছেলে। তিনি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের দক্ষিণ চরদুয়ানী এলাকার ফুল মিয়ার মালিকানাধীন এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারে জেলে হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ট্রলারটিতে মোট ১০ জন জেলে ছিলেন বলে জানা গেছে।‎‎ট্রলার মালিক ও মাঝি ফুল মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জাল ফেলে জেলেরা ট্রলারে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ঝড়-বৃষ্টি ও বড় ঢেউ শুরু হয়। পরে সকালে জাল তোলার সময় সবাইকে ডাকাডাকি করা হলে শাহীনকে পাওয়া যায়নি। ট্রলারের ভেতর ও আশপাশে খোঁজ করেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি।‎‎ট্রলারে থাকা শাহিনের খালাতো ভাই আব্দুস সালাম জানান, ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে বড় বড় ঢেউ ও বজ্রপাত হচ্ছিল। পরে শাহীনকে দেখতে না পেয়ে তাঁরা ট্রলারের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেন। সাগরে ফেলে রাখা জাল কেটে টর্চলাইট ও সার্চলাইট দিয়েও চারপাশে দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান চালানো হয়। কিন্তু তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।‎‎মাঝি গণি মিয়ার ধারণা, বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় শাহীন ট্রলার থেকে ছিটকে সাগরে পড়ে যেতে পারেন। তবে তিনি ঠিক কীভাবে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।‎‎শাহীন নিখোঁজ হওয়ার খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর তাঁর স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর উৎকণ্ঠা। সাগরে পড়ে যাওয়ার পর থেকে তাঁর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের সদস্যরা এখনো আশায় বুক বেঁধে আছেন—হয়তো কোনোভাবে বেঁচে আছেন শাহীন, দ্রুত উদ্ধার হয়ে ফিরবেন আপনজনদের কাছে।‎‎স্বজন ও সহকর্মীরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। উপকূলে ফিরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়ন, কোস্ট গার্ড ও ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়েছে। ‎‎বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে জেলেদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। শাহীন নিখোঁজ হওয়ার খবর তাঁরা পেয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।‎‎পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল আলীম বলেন, জেলে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছেন। নিখোঁজ শাহিনের বাড়ি মঠবাড়িয়া উপজেলায় হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।‎‎উত্তাল বঙ্গোপসাগরের বুকে এখনো অপেক্ষা—শাহীন কি ফিরবেন?‎একদিকে সাগরে সহকর্মীদের উদ্বেগ আর অন্যদিকে তীরে স্বজনদের উৎকণ্ঠা। নিখোঁজ জেলে শাহীন মিয়াকে জীবিত উদ্ধারের আশায় প্রহর গুনছে তাঁর পরিবার। এখন দ্রুত ও কার্যকর উদ্ধার অভিযানই স্বজনদের একমাত্র প্রত্যাশা।‎

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
পাথরঘাটায় ট্রলার থেকে পড়ে জেলে নিখোঁজ, উত্তাল সাগরে চলছে সন্ধান
0:00 0:00
1.0x