পুলিশ জানায়, অপহৃত মো. হেলাল উদ্দিন (৩৬) পাঁচলাইশ মডেল থানাধীন শুলকবহর রওশন বোর্ডিংয়ের পাশে একটি গাড়ির গ্যারেজ পরিচালনা করেন। মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. আবুল হাশেম (৫২) তার পূর্বপরিচিত ও ব্যবসায়িক অংশীদার। ব্যবসায়িক লেনদেনকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, আবুল হাশেম বিভিন্ন সময়ে হেলাল উদ্দিনের ব্যবসায় মোট ৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন। এর মধ্যে ৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও ৪ লাখ ৬৯ হাজার টাকা পাওনা ছিল। এ টাকা আদায়ের জন্য আবুল হাশেম হেলালকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আবুল হাশেমসহ ৭-৮ জন ব্যক্তি একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে শুলকবহর রওশন বোর্ডিংয়ের সামনে এসে হেলাল উদ্দিনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে হেলালের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে তার স্ত্রী জেসমিন আক্তারের মোবাইলে ফোন করে অপহরণকারীরা ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে হেলালকে হত্যা করার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে আবার ফোন করে দ্রুত ১ লাখ টাকা পাঠানোর দাবি জানানো হয়।
এ ঘটনায় হেলালের স্ত্রী মোছাম্মাৎ জেসমিন আক্তার পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলাটি ৩৬৫/৩৮৫/৫০৬/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়।
মামলার পর পাঁচলাইশ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে এসআই মো. হুমায়ুন কবীরসহ পুলিশের একটি দল অভিযান শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৯ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর আকবরশাহ থানাধীন উত্তর কাট্টলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. শান্ত মিয়া (৩২)কে গ্রেফতার করা হয়।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচলাইশের মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. আবুল হাশেমকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আকবরশাহ থানাধীন লতিফপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. আকরাম (৩৪)কে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে অপহৃত হেলাল উদ্দিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পরে গ্রেফতারকৃত শান্ত মিয়া ও আকরামকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, হেলাল উদ্দিনকে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন মহামায়া লেক এলাকায় রাখা হয়েছে। এরপর মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় মহামায়া লেকের ভেতরে বন বিভাগের একটি পরিত্যক্ত কটেজে অভিযান চালানো হয়।
সেখান থেকে মো. মঈন উদ্দিন রায়হান (২৯), আমজাদ হোসেন (৩৫), মাহবুব রহমান (২৬), মানিক হোসেন (৩০) ও মো. ফারুক (৩৪)—এই পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। একই অভিযানে অপহৃত মো. হেলাল উদ্দিনকে উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ব্যবসায়িক লেনদেনের বিরোধের বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, আবুল হাশেম ও আকরাম পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে শান্ত মিয়াকে ১ লাখ টাকা দিয়ে অন্যদের ভাড়া করে হেলাল উদ্দিনকে অপহরণ করান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এ ঘটনায় গ্রেফতার ৮ আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত