প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে হাতেনাতে ধরা খেলেন ডিএমপির এএসআই
সৌদি আরবে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে দেশে পরিবার ও স্ত্রীর সুখের জন্য টাকা-পয়সা আর গয়না পাঠাতেন মো. জহির শাহ। কিন্তু সেই ঘামঝরানো অর্জনে চোখ পড়ে খোদ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এক কর্মকর্তার। শেষ পর্যন্ত স্ত্রীর পরকীয়া এবং নগদ টাকা ও বিপুল পরিমাণ সোনা চুরির অভিযোগে চট্টগ্রামে একই ফ্ল্যাট থেকে অবরুদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এবং ওই প্রবাসী নারী।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ডিএমপির এএসআই মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না এবং চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রবাসী জহির শাহের স্ত্রী কাজী পারভীন আক্তার। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় তাঁদের আটক করার পর আদালতের মাধ্যমে দুজনকেই চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সৌদি প্রবাসী জহির শাহ ২০১৮ সাল থেকে বিদেশে অবস্থান করছেন। অভিযুক্ত এএসআই নুরুন্নবী মুন্না ইতিপূর্বে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) আকবরশাহ থানায় কর্মরত ছিলেন। সেই সুবাদে ২০২১ সাল থেকে জহিরের পরিবারের সঙ্গে তাঁর যাতায়াত ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি হয়। একপর্যায়ে প্রবাসী জহিরের স্ত্রী কাজী পারভীন আক্তারের সঙ্গে ওই পুলিশ কর্মকর্তার অনৈতিক ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
ঘটনাটি কেবল অনৈতিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। অভিযোগ উঠেছে, এএসআই মুন্না ও প্রবাসী পারভীন আক্তার পরস্পর যোগসাজশে প্রবাসী জহির শাহের কষ্টার্জিত নগদ ১৫ লাখ টাকা এবং পাঠানো ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ ও সরিয়ে নিয়েছেন। চুরি ও লোপাট হওয়া এই অর্থ ও সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য অন্তত ২৬ লাখ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা
গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নগরের আকবরশাহ থানাধীন বিশ্ব কলোনির আই-ব্লকের একটি ফ্ল্যাটে পারভীন আক্তারের কাছে যান এএসআই নুরুন্নবী মুন্না। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা একজোট হয়ে তাঁদের ফ্ল্যাটের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং আকবরশাহ থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
ঘটনার পর প্রবাসীর ভাই বাদী হয়ে আকবরশাহ থানায় ব্যভিচার, মারধর, চুরি ও হুমকির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর গত বৃহস্পতিবার তাঁদের চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেনের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাঁদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান জানান, স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে দুজনকে উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি কেবল একটি প্রবাসীর পারিবারিক বিপর্যয়ই নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাগত নৈতিকতা ও জবাবদিহির ওপরও বড় ধরনের প্রশ্নের সৃষ্টি করবে।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত