জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
সারাদেশ

সারাদেশ

বগুড়ায় টাকার লোভে বন্ধুর প্রাণ কাড়ল ২ সহপাঠী

বগুড়ায় টাকার লোভে বন্ধুর প্রাণ কাড়ল ২ সহপাঠী
বগুড়ায় আসামি

টাকার লোভেই বন্ধুর প্রাণ কাড়ল ২ সহপাঠী! 

আমজাদ হোসেন মিঠু,

বিশেষ প্রতিনিধি:

টাকার লোভে অন্ধ হয়ে দিনের পর দিন পাশে থাকা বন্ধুকেই নির্মমভাবে হত্যা করল দুই সহপাঠী! বন্ধুকে কীভাবে সহজে অজ্ঞান করে নিঃশেষ করে দেওয়া যায়, তা শেখা হয়েছিল গুগল সার্চ করে। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ায়, যেখানে ফল ব্যবসায়ী ওয়াহেদ হোসেন ওরফে নিঝুম (২৮) নামের এক যুবককে কোমল পানীয়র সঙ্গে বিষ ও চেতনানাশক মিশিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করার পর লাশ বস্তাবন্দী করে ফেলে রাখা হয় ধানখেতে।

পুলিশের তদন্ত ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিঝুম বগুড়া শহরের স্টেশন সড়কে 'নিঝুম এন্টারপ্রাইজ' নামের একটি ফলের আড়তের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। সম্প্রতি ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য তাঁর মায়ের নামে একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে ৭ লাখ টাকা ঋণ তোলেন তিনি। এর মধ্যে ৩ লাখ টাকা নিজের পারিবারিক ব্যবসায় বিনিয়োগ করার পাশাপাশি দুই বিশ্বাসী বন্ধু নাজিম উদ্দিনকে ১ লাখ টাকা এবং স্বপনকে ২ লাখ টাকা ধার দেন।

কিন্তু বিপদ ঘনিয়ে আসে সেই ধারের টাকা ফেরত চাওয়ার পর থেকেই। টাকা ফেরত দিতে তালবাহানা শুরু করে নাজিম ও স্বপন। একপর্যায়ে পাওনা টাকা না দেওয়ার উদ্দেশ্যে তারা নিঝুমকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার ভয়ংকর ছক আঁকে।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের আগে আসামি নাজিম তাঁর মোবাইল ফোনের ইন্টারনেটে ‘অজ্ঞান করার ওষুধ’-এর নাম ও ব্যবহার পদ্ধতি খুঁজে বের করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট নিঝুমকে মালগ্রাম এলাকার একটি কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে কোমল পানীয়র (সফট ড্রিংকস) সাথে বিষাক্ত চেতনানাশক মিশিয়ে তাঁকে পান করানো হয়। নিঝুম নিস্তেজ হয়ে পড়লে দুজনে মিলে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে রাত গভীর হলে লাশ বস্তায় ভরে পার্শ্ববর্তী একটি ধানখেতে ফেলে রেখে আত্মগোপনে চলে যায় ঘাতকরা।

ঘটনার পাঁচ দিন পর, ১২ আগস্ট পুলিশ এক অজ্ঞাতনামা বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে দাফন করে। পরবর্তীতে স্বজনেরা নিঝুমের রেখে যাওয়া জিনিসপত্র ও ছবি দেখে মরদেহটি শনাক্ত করেন।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও কল ডিটেইলস রেকর্ডের (সিডিআর) সূত্র ধরে পুলিশ কাহালুর মদনাই গ্রাম থেকে মূল অভিযুক্ত নাজিমকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে হাজির করে পুলিশ তাঁকে রিমান্ডে নিলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই নাজিম হত্যাকাণ্ডের নৃশংস বর্ণনা স্বীকার করেন। অপর পলাতক অভিযুক্ত স্বপনকে গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

আজকের যুগে প্রযুক্তি যখন মানুষের জীবন সহজ করার কথা, তখন সেই প্রযুক্তিকেই কাজে লাগিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় খুনের ছক কষার এই ঘটনা পুরো এলাকা জুড়ে সৃষ্টি করেছে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বগুড়ায় টাকার লোভে বন্ধুর প্রাণ কাড়ল ২ সহপাঠী

প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
টাকার লোভেই বন্ধুর প্রাণ কাড়ল ২ সহপাঠী! আমজাদ হোসেন মিঠু,বিশেষ প্রতিনিধি:টাকার লোভে অন্ধ হয়ে দিনের পর দিন পাশে থাকা বন্ধুকেই নির্মমভাবে হত্যা করল দুই সহপাঠী! বন্ধুকে কীভাবে সহজে অজ্ঞান করে নিঃশেষ করে দেওয়া যায়, তা শেখা হয়েছিল গুগল সার্চ করে। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ায়, যেখানে ফল ব্যবসায়ী ওয়াহেদ হোসেন ওরফে নিঝুম (২৮) নামের এক যুবককে কোমল পানীয়র সঙ্গে বিষ ও চেতনানাশক মিশিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করার পর লাশ বস্তাবন্দী করে ফেলে রাখা হয় ধানখেতে।পুলিশের তদন্ত ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিঝুম বগুড়া শহরের স্টেশন সড়কে 'নিঝুম এন্টারপ্রাইজ' নামের একটি ফলের আড়তের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। সম্প্রতি ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য তাঁর মায়ের নামে একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে ৭ লাখ টাকা ঋণ তোলেন তিনি। এর মধ্যে ৩ লাখ টাকা নিজের পারিবারিক ব্যবসায় বিনিয়োগ করার পাশাপাশি দুই বিশ্বাসী বন্ধু নাজিম উদ্দিনকে ১ লাখ টাকা এবং স্বপনকে ২ লাখ টাকা ধার দেন।কিন্তু বিপদ ঘনিয়ে আসে সেই ধারের টাকা ফেরত চাওয়ার পর থেকেই। টাকা ফেরত দিতে তালবাহানা শুরু করে নাজিম ও স্বপন। একপর্যায়ে পাওনা টাকা না দেওয়ার উদ্দেশ্যে তারা নিঝুমকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার ভয়ংকর ছক আঁকে।তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের আগে আসামি নাজিম তাঁর মোবাইল ফোনের ইন্টারনেটে ‘অজ্ঞান করার ওষুধ’-এর নাম ও ব্যবহার পদ্ধতি খুঁজে বের করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট নিঝুমকে মালগ্রাম এলাকার একটি কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে কোমল পানীয়র (সফট ড্রিংকস) সাথে বিষাক্ত চেতনানাশক মিশিয়ে তাঁকে পান করানো হয়। নিঝুম নিস্তেজ হয়ে পড়লে দুজনে মিলে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে রাত গভীর হলে লাশ বস্তায় ভরে পার্শ্ববর্তী একটি ধানখেতে ফেলে রেখে আত্মগোপনে চলে যায় ঘাতকরা।ঘটনার পাঁচ দিন পর, ১২ আগস্ট পুলিশ এক অজ্ঞাতনামা বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে দাফন করে। পরবর্তীতে স্বজনেরা নিঝুমের রেখে যাওয়া জিনিসপত্র ও ছবি দেখে মরদেহটি শনাক্ত করেন।তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও কল ডিটেইলস রেকর্ডের (সিডিআর) সূত্র ধরে পুলিশ কাহালুর মদনাই গ্রাম থেকে মূল অভিযুক্ত নাজিমকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে হাজির করে পুলিশ তাঁকে রিমান্ডে নিলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই নাজিম হত্যাকাণ্ডের নৃশংস বর্ণনা স্বীকার করেন। অপর পলাতক অভিযুক্ত স্বপনকে গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।আজকের যুগে প্রযুক্তি যখন মানুষের জীবন সহজ করার কথা, তখন সেই প্রযুক্তিকেই কাজে লাগিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় খুনের ছক কষার এই ঘটনা পুরো এলাকা জুড়ে সৃষ্টি করেছে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য।

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
বগুড়ায় টাকার লোভে বন্ধুর প্রাণ কাড়ল ২ সহপাঠী
0:00 0:00
1.0x