জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
সারাদেশ

সারাদেশ

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মর্মান্তিক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা: বাড়ী ফেরা হলো না সৌদি প্রবাসী হৃদয়ের

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মর্মান্তিক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা: বাড়ী ফেরা হলো না সৌদি প্রবাসী হৃদয়ের
ইনসেটে নিহত প্রবাসী হৃদয়

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মর্মান্তিক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা:  বাড়ি ফেরা হলো না সৌদি প্রবাসী হৃদয়ের

আমজাদ হোসেন মিঠু,

বিশেষ প্রতিনিধি 

বন্ধুদের সঙ্গে মাওয়া ঘুরতে যাওয়ার আনন্দ নিমেষেই বিষাদে পরিণত হলো সৌদি প্রবাসী হৃদয় হোসেনের (২৭) পরিবারে। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন এই তরুণ। দুর্ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা বন্ধু সাজ্জাদ (২৪) গুরুতর আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোরে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কুচিয়ামোড়া সেতুর ঢালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হৃদয় হোসেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আবদুল্লাহপুর গ্রামের প্রয়াত সায়েদ মিয়ার ছেলে। তিনি তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন।

স্বজন ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে চারটি মোটরসাইকেলে করে আট বন্ধু মিলে মাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। রাতে ঘোরাঘুরি ও খাওয়া-দাওয়া শেষে ভোরে কেরানীগঞ্জের নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তাঁরা। পথিমধ্যে এক্সপ্রেসওয়ের কুচিয়ামোড়া সেতুর ঢালে পৌঁছালে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে আছড়ে পড়ে। এতে হৃদয় ছিটকে সড়কের রেলিংয়ের সঙ্গে প্রচণ্ড ধাক্কা খান এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

খবর পেয়ে সিরাজদিখান ফায়ার সার্ভিস সকাল ৬টা ২১ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে হৃদয়কে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে এবং আহত সাজ্জাদকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। পরে মরদেহ হাসাড়া হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার মাস আগে সৌদি আরব থেকে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন হৃদয়। চলতি মাসের শেষের দিকেই আবার কর্মস্থলে ফেরার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা চিরতরে থামিয়ে দিল তাঁর পথচলা।

বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে সংসার ও বৃদ্ধা মা, স্ত্রী এবং ২২ মাস বয়সী কন্যাসন্তানের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন হৃদয়। হৃদয়ের বোনের স্বামী শাহীন আলম আকুল কণ্ঠে বলেন, "বাবার মৃত্যুর পর হৃদয়ই ছিল পরিবারের মূল স্তম্ভ। মা, স্ত্রী ও ছোট মেয়েটির সব দেখভাল ও-ই করত। এভাবে শেষ হয়ে যাবে কখনো ভাবিনি।"

সড়কে সামান্য একটু অসাবধানতা ও অতিরিক্ত গতি কেড়ে নিল একটি তাজা প্রাণ, নিভিয়ে দিল একটি পরিবারের আশার আলো। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গতিসীমা মেনে চলা ও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মর্মান্তিক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা: বাড়ী ফেরা হলো না সৌদি প্রবাসী হৃদয়ের

প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মর্মান্তিক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা:  বাড়ি ফেরা হলো না সৌদি প্রবাসী হৃদয়েরআমজাদ হোসেন মিঠু,বিশেষ প্রতিনিধি বন্ধুদের সঙ্গে মাওয়া ঘুরতে যাওয়ার আনন্দ নিমেষেই বিষাদে পরিণত হলো সৌদি প্রবাসী হৃদয় হোসেনের (২৭) পরিবারে। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন এই তরুণ। দুর্ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা বন্ধু সাজ্জাদ (২৪) গুরুতর আহত হয়েছেন।শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোরে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কুচিয়ামোড়া সেতুর ঢালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হৃদয় হোসেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আবদুল্লাহপুর গ্রামের প্রয়াত সায়েদ মিয়ার ছেলে। তিনি তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন।স্বজন ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে চারটি মোটরসাইকেলে করে আট বন্ধু মিলে মাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। রাতে ঘোরাঘুরি ও খাওয়া-দাওয়া শেষে ভোরে কেরানীগঞ্জের নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তাঁরা। পথিমধ্যে এক্সপ্রেসওয়ের কুচিয়ামোড়া সেতুর ঢালে পৌঁছালে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে আছড়ে পড়ে। এতে হৃদয় ছিটকে সড়কের রেলিংয়ের সঙ্গে প্রচণ্ড ধাক্কা খান এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।খবর পেয়ে সিরাজদিখান ফায়ার সার্ভিস সকাল ৬টা ২১ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে হৃদয়কে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে এবং আহত সাজ্জাদকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। পরে মরদেহ হাসাড়া হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার মাস আগে সৌদি আরব থেকে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন হৃদয়। চলতি মাসের শেষের দিকেই আবার কর্মস্থলে ফেরার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা চিরতরে থামিয়ে দিল তাঁর পথচলা।বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে সংসার ও বৃদ্ধা মা, স্ত্রী এবং ২২ মাস বয়সী কন্যাসন্তানের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন হৃদয়। হৃদয়ের বোনের স্বামী শাহীন আলম আকুল কণ্ঠে বলেন, "বাবার মৃত্যুর পর হৃদয়ই ছিল পরিবারের মূল স্তম্ভ। মা, স্ত্রী ও ছোট মেয়েটির সব দেখভাল ও-ই করত। এভাবে শেষ হয়ে যাবে কখনো ভাবিনি।"সড়কে সামান্য একটু অসাবধানতা ও অতিরিক্ত গতি কেড়ে নিল একটি তাজা প্রাণ, নিভিয়ে দিল একটি পরিবারের আশার আলো। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গতিসীমা মেনে চলা ও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মর্মান্তিক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা: বাড়ী ফেরা হলো না সৌদি প্রবাসী হৃদয়ের
0:00 0:00
1.0x