নিউজ ডেস্ক | উখিয়া, কক্সবাজার
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ২ নম্বর ওয়ার্ডে শেখ সাঈদী নামে এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে একটি ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও নানা অভিযোগ উঠেছে। তাকে মারধর, গরুর সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখার এবং ‘গরু চুরির’ অভিযোগে ভিডিও ধারণের দাবি করেছেন তার পক্ষের লোকজন।
এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর নামে একজনও হামলার শিকার হয়েছেন বলে তার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো জানা যায়নি।
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, এর আগে কক্সবাজারের হাজিরপাড়ায় একটি এপিবিএন পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় অভিযান চালিয়ে মাদক ও নগদ টাকা উদ্ধারের একটি ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের খবরও পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগী পক্ষের ভাষ্য, ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সঙ্গে শেখ সাঈদীর পরিবারের এলাকার সম্পর্ক রয়েছে। মাদকবিরোধী বিভিন্ন বিষয়ে শেখ সাঈদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করতেন বলেও তারা জানান।
তাদের দাবি, এসব পোস্টকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে কোনো বিরোধ তৈরি হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়। তবে এ দাবির স্বাধীন সত্যতা এবং ঘটনার সঙ্গে বর্তমান ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শেখ সাঈদীর পক্ষের লোকজন আরও দাবি করেছেন, এর আগে তার বাড়িতে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে এবং তার বাবা-মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী পক্ষের বক্তব্য, শেখ সাঈদী একটি সাংগঠনিক কর্মসূচিতে যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয় এবং পরে গরুর সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। এ সময় তাকে গরু চুরি করতে গিয়ে আটক করা হয়েছে—এমন বক্তব্য দিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
অন্যদিকে, গরু চুরির অভিযোগটি সত্য কি না, সেটি নির্ধারণের জন্য কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ, সাক্ষ্য বা আইনগত তদন্তের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে কি না—তা স্পষ্ট নয়।
এ কারণে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—ঘটনাটি যদি গরু চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে, তাহলে অভিযোগটির যথাযথ তদন্ত হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দেওয়া হয়েছিল কি না।
একই ঘটনায় শেখ সাঈদীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গিয়ে জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে তার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে তিনি কীভাবে এবং কার হামলায় আহত হয়েছেন—এ বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য প্রয়োজন।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন, আবার কেউ ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেছেন।
তবে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠলে সেটি যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে আইনগত প্রক্রিয়ায় নেওয়াই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। গরু চুরির অভিযোগ, শেখ সাঈদীর ওপর হামলার অভিযোগ, পূর্বের বিরোধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য—এসবের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তদন্তের মাধ্যমে তা পরিষ্কার করার দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি, সংগঠন বা অন্য কোনো পক্ষের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলে সেটিও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিউজ ডেস্কের অবস্থান:
এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি ও অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা পক্ষকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। ঘটনার প্রকৃত সত্য জানতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত