বিশেষ প্রতিনিধিঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
মঙ্গলবার দুপুরে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলন দমনে ব্যাপক ও পরিকল্পিত হামলা, হত্যা, নির্যাতন, উসকানি, ষড়যন্ত্র এবং অপরাধ প্রতিরোধে ব্যর্থতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। এই সময়ে ১,৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ২৫ হাজারের বেশি মানুষ গুরুতর আহত হন।
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটির বিচার শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষ মোট ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করে।
চলতি বছরের ১৭ আগস্ট উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (CAV) রেখেছিলেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামির কেউই আদালতে উপস্থিত ছিলেন না; তারা সবাই বর্তমানে পলাতক। ফলে এই রায় বাস্তবে কীভাবে ও কখন কার্যকর হবে—তা নিয়ে বড় ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিচারিক নিয়ম অনুযায়ী, এটি একটি প্রথম ধাপের আদালতভিত্তিক সিদ্ধান্ত। আসামিদের ক্ষেত্রে আইনি পরবর্তী ধাপ, আপিলের সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক সহায়তায় পলাতকদের ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের বিষয়গুলো যুক্ত রয়েছে। ঘটনাটি কেবল রাজনৈতিক সমীকরণ বা জয়-পরাজয়ের দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা, রাজনৈতিক জবাবদিহি এবং ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার রোধের ক্ষেত্রে একটি বড় পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত