ডেঙ্গু প্রতিরোধে ফেনীর সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান
বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ফগার মেশিনে ওষুধ ছিটানোর ব্যবস্থা করার অনুরোধ
ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে ফেনীসহ দেশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা সংস্থার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সহকারী যুগ্ম মহাসচিব ও ফেনী জেলা আঞ্চলিক পরিচালক জনাব মোহাম্মদ হানিফ এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক জনাব আবুল কাশেম।
এক যৌথ সচেতনতামূলক বার্তায় তারা ফেনী, লেমুয়া, বালিগাঁওসহ ফেনী সদর উপজেলার সকল ইউনিয়নের বাসিন্দাদের প্রতি বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান।
তারা বলেন, বর্তমানে ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে অনেক মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা সম্ভব।
সচেতনতামূলক বার্তায় তারা বলেন, বাড়ির আশপাশে যেন কোথাও পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। বিশেষ করে ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত বোতল, ফুলের টব, পলিথিন, পুরোনো পাত্রসহ যেসব স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
তারা আরও বলেন, শুধু নিজের বাড়ি পরিষ্কার রাখলেই হবে না; প্রতিবেশী ও আশপাশের পরিবেশও পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কারণ জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হতে পারে। তাই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং পানি জমে থাকার সম্ভাব্য স্থানগুলো অপসারণ করা জরুরি।
মোহাম্মদ হানিফ ও আবুল কাশেম স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতিও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণে ওষুধ ছিটানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততাও বাড়বে।
তারা জানান, কোনো ইউনিয়নে প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও ফগার মেশিন বা মশা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বিষয়টি তাদের অবহিত করার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তাদের আহ্বান—ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়; পরিবার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নিজের বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখুন, কোথাও পানি জমতে দেবেন না এবং অন্যদেরও সচেতন করুন।
সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
Did you like this feature?

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত