সাভারের প্রধান সড়কের পাশাপাশি বিভিন্ন সার্ভিস লেনেও দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে যানজট। হেমায়েতপুর, উলাইল, গেন্ডা, থানা স্ট্যান্ড, রেডিও কলোনি বাসস্ট্যান্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর সার্ভিস লেনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের প্রতিদিনই চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাত্রীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সার্ভিস লেনগুলো মূলত যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ও মূল সড়কের ওপর চাপ কমানোর জন্য তৈরি হলেও বর্তমানে উল্টো পথে অটো রিক্সার চলাচল, বিভিন্ন ধরনের যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখা, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, রাস্তার পাশে দোকানের মালামাল রাখা এবং অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে এসব লেনের বড় একটি অংশ কার্যত সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে অল্প জায়গা দিয়ে বিপুলসংখ্যক বাস, মিনিবাস, অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করতে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
হেমায়েতপুর এলাকার একাধিক যাত্রী জানান, অফিস ও কারখানাগামী মানুষের চাপ বাড়ার সময় সার্ভিস লেনে যানজট সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। অনেক সময় কয়েকশ মিটার পথ পাড়ি দিতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এতে নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।
হেমায়েতপুরের এক কর্মজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন সকালে অফিসে যাওয়ার সময় সার্ভিস লেনে যানজটে আটকে থাকতে হয়। মূল সড়কে যানজট থাকলেও সার্ভিস লেন দিয়ে দ্রুত যাওয়ার সুযোগ থাকে না। কোথাও গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে, কোথাও আবার অটোরিকশা এলোমেলোভাবে চলাচল করে।
উলাইল এলাকার বাসিন্দা সাইফুল রহমান বলেন, সার্ভিস লেনের জায়গা অনেক সময় যানবাহন রাখার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে চলাচলের জায়গা কমে যাচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত নজরদারি করলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
গেন্ডা এলাকায়ও একই চিত্র দেখা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে সার্ভিস লেনে যাত্রীবাহী যানবাহন দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানোর কারণে পেছনে যানবাহনের সারি তৈরি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্দিষ্ট স্টপেজের বাইরে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করা গেলে যানজট অনেকটাই কমানো সম্ভব।
গেন্ডার এক শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ বলেন, কলেজে যাওয়ার সময় প্রায়ই যানজটে আটকে যাই। অনেক সময় গাড়ি ধীরে ধীরে চলতে থাকে, আবার কোথাও পুরোপুরি থেমে যায়। পরীক্ষার দিন এই সমস্যা আরও বেশি ভোগান্তিতে ফেলে।
সাভার থানা স্ট্যান্ড এলাকাতেও সার্ভিস লেন ঘিরে রয়েছে নানা সমস্যা। বাস, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলও অনেক সময় একই জায়গায় বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
থানা স্ট্যান্ড এলাকার ব্যবসায়ী মো. কামাল হোসেন বলেন, সকাল ও বিকেলের দিকে এখানে যানজট লেগেই থাকে। যাত্রী ওঠানোর জন্য গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকলে পেছনে অনেক গাড়ি আটকে যায়। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।
রেডিও কলোনি বাসস্ট্যান্ড এলাকাতেও যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং বাস থামানোর প্রবণতার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ এবং সার্ভিস লেনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
রেডিও কলোনির বাসিন্দা শামীমা আক্তার বলেন, নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষদের নিয়ে যানজটে দাঁড়িয়ে থাকা খুবই কষ্টকর। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি গাড়িও আটকে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যানজটের জন্য শুধু যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধিই দায়ী নয়; সার্ভিস লেনের সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব, অবৈধ পার্কিং, যত্রতত্র গাড়ি থামানো এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতাও এর জন্য দায়ী। তারা বলছেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, নির্দিষ্ট স্থানে যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা, অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং সার্ভিস লেনে ট্রাফিক পুলিশের কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সাভারবাসীর দাবি, সার্ভিস লেনগুলোকে যানজটমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি যানবাহন চালক ও পথচারীদেরও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। অন্যথায় সার্ভিস লেনগুলোতে যানজটের সমস্যা আরও প্রকট হয়ে নগরবাসীর দৈনন্দিন চলাচল ও কর্মঘণ্টায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, হেমায়েতপুর থেকে রেডিও কলোনি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সার্ভিস লেনগুলোতে নিয়মিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে এবং যানজটের স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত