দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর কিশোরীকে ‘গোপন’ রাখার অভিযোগ।
লিমন মিয়ার সঙ্গে থাকার পর চাচার বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ, কিশোরীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ।
মৌলভীবাজার এর রাজনগরে ১নং ফতেহপুর ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ডে এর শাহিন মিয়ার মেয়ে, ইমা বেগম (১৫)। নামের এক কিশোরীকে দুই দিন ধরে মুজাহিদ চৌধুরী ছেলে লিমন মিয়া নামের এক যুবকের সঙ্গে থাকার পর বর্তমানে মেয়ের চাচা সাজন মিয়া গোপন স্থানে আটকে রেখেছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সাজন মিয়া টাকা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইমা বেগম (১৫) টানা দুই দিন লিমন মিয়ার সঙ্গে ছিলেন। পরে বিষয়টি পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে তাকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে কিশোরীকে পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়ার পরিবর্তে তার চাচা সাজন মিয়া বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, লিমন মিয়ার কাছ থেকে সাজন মিয়া টাকা নিয়ে ঘটনাটি মীমাংসার নামে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এরপর থেকে ইমা বেগমকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে গোপনে রাখা হয়েছে এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তার স্বাভাবিক যোগাযোগের সুযোগও দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।এর পর ইমার মোবাইল ফোন আটকে রেখেছেন চাচা সাজন মিয়া।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—১৫ বছর বয়সী একজন কিশোরী বর্তমানে কোথায় এবং কার হেফাজতে রয়েছে? তার সঙ্গে কী ঘটেছিল এবং বর্তমানে সে নিরাপদে আছে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।
অভিযোগের বিষয়টি সত্য হলে, এটি শুধু পারিবারিক বিরোধের বিষয় নয়; একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর নিরাপত্তা ও আইনগত সুরক্ষার প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িত। তাই কিশোরীর অবস্থান শনাক্ত করে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, টাকা লেনদেন করে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ এবং কিশোরীকে গোপন স্থানে রাখার অভিযোগের বিষয়ে সাজন মিয়া বলেন এই বিষয় তিনি জানেন না। একইভাবে লিমন মিয়ার বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, কিশোরী যদি সত্যিই চাচার হেফাজতে থাকে, তাহলে তাকে পরিবারের সদস্যদের সামনে আনা হচ্ছে না কেন? আর দুই দিন লিমন মিয়ার সঙ্গে থাকার বিষয়টি কীভাবে ঘটল—এর পেছনে কোনো প্ররোচনা, জোরপূর্বক নেওয়া বা অন্য কোনো ঘটনা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
কিশোরীর বয়স ১৫ বছর হওয়ায় তার পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রেও আইনগত ও নৈতিক বিষয় বিবেচনা করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে কিশোরীকে নিরাপদে উদ্ধার, তার বক্তব্য গ্রহণ এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে রাজনগর থানা এসআই আমির হোসেন বলেন লিমা বেগম একটি অভিযোগ দিয়েছেন থানায়।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত