জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
জন দুর্ভোগ

জন দুর্ভোগ

অপ্রয়োজনে হর্ন নয়, অবৈধ একজস্ট নয়

শব্দদূষণের নীরব আগ্রাসন

শব্দদূষণের নীরব আগ্রাসন
শব্দ দূষণে মানব জীবন অতিষ্ট

শব্দদূষণের নীরব আগ্রাসন

      লেখক : শহীদুল ইসলাম (সহকারী অধ্যাপক ও কলামিস্ট)

একটি সভ্য জাতির পরিচয় শুধু তার উন্নত সড়ক, আধুনিক যানবাহন কিংবা উঁচু অট্টালিকায় নয়; বরং তার নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশের সড়কে এমন এক অসভ্য সংস্কৃতি দিন দিন বিস্তার লাভ করছে, যা শুধু বিরক্তির কারণ নয়-এটি জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং সড়ক নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ হুমকিতে পরিণত হয়েছে। অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানো এবং বিকট শব্দ সৃষ্টি করে এমন পরিবর্তিত (Modified) একজস্ট ব্যবহার যেন এক ধরনের সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে।

ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায়ও হর্ন, ফাঁকা রাস্তায় হর্ন, সামান্য ধীরগতির জন্য হর্ন, এ যেন এক অদ্ভুত প্রতিযোগিতা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িতে অবৈধভাবে পরিবর্তিত একজস্ট লাগিয়ে বিকট শব্দ সৃষ্টি করা। অনেকেই এটিকে ফ্যাশন বা আধিপত্যের প্রতীক মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে এটি অন্যের শান্তি, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত।

বাংলাদেশে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ অনুযায়ী নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আদালত এবং নীরব এলাকা (Silent Zone)-এ অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একইভাবে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী যানবাহনের অনুমোদিত কাঠামো পরিবর্তন করে অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি করে এমন একজস্ট ব্যবহার আইনসম্মত নয়। প্রয়োজনে জরিমানা, যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কিংবা অবৈধ যন্ত্রাংশ অপসারণের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের রয়েছে।

তবুও বাস্তবতা হলো আইন থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগ এখনও সীমিত। মাঝে মাঝে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হলেও কিছুদিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। ফলে অনেক চালক মনে করেন, এই অপরাধের কোনো বাস্তব শাস্তি নেই।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলো ভিন্ন পথ দেখিয়েছে। যুক্তরাজ্যে রাতের নির্দিষ্ট সময়ে আবাসিক এলাকায় অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানো আইনত নিষিদ্ধ। জার্মানিতে নির্ধারিত শব্দমাত্রার বাইরে একজস্ট ব্যবহার করলে শুধু জরিমানাই নয়, গাড়ির রেজিস্ট্রেশনও বাতিল হতে পারে। জাপানে অকারণে হর্ন বাজানোকে অত্যন্ত অসৌজন্যমূলক আচরণ হিসেবে দেখা হয়। সিঙ্গাপুরে অনুমোদনহীন একজস্ট ব্যবহার করলে বড় অঙ্কের জরিমানা, এমনকি যানবাহন জব্দের ব্যবস্থাও রয়েছে। উন্নত দেশগুলো বুঝেছে শব্দদূষণও বায়ুদূষণের মতোই জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত শব্দের মধ্যে থাকলে মানুষের শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, অনিদ্রা, উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায়। শিশুদের স্মৃতিশক্তি ও শেখার সক্ষমতাও কমে যেতে পারে। হাসপাতালের রোগীরা সুস্থ হতে দেরি করেন, পরীক্ষার্থীরা মনোযোগ হারান, নবজাতক ও বয়স্করা তীব্র অস্বস্তিতে ভোগেন। শুধু মানুষই নয়, অতিরিক্ত শব্দে পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হয়।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অনেক সময় হঠাৎ বিকট শব্দে পথচারী বা অন্য চালক চমকে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। অর্থাৎ অপ্রয়োজনীয় হর্ন ও বিকট একজস্ট শুধু শব্দদূষণই নয়, সড়ক দুর্ঘটনারও একটি পরোক্ষ কারণ।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পরিবহন মালিক, চালক এবং সাধারণ নাগরিক সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সরকারের উচিত-

সারা দেশে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা।

অবৈধ একজস্ট উৎপাদন, আমদানি ও বিক্রি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।

সিসিটিভি ও শব্দমাত্রা পরিমাপক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আইন প্রয়োগ জোরদার করা।

প্রতিটি জেলা ও মহানগরে শব্দদূষণবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা।

গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা বৃদ্ধি করা।

অন্যদিকে, আমাদের চালকদেরও কিছু নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে-

প্রয়োজন ছাড়া কখনো হর্ন বাজাব না।

বিকট শব্দের অবৈধ একজস্ট ব্যবহার করব না।

হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও আবাসিক এলাকায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করব।

ট্রাফিক আইন মেনে ধৈর্যের সঙ্গে গাড়ি চালাব।

অন্য চালকদেরও সচেতন হতে উৎসাহিত করব।

মনে রাখতে হবে, একজন ভালো চালকের পরিচয় তার গাড়ির গতি বা শব্দে নয়; বরং তার ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও মানবিকতায়। একটি অপ্রয়োজনীয় হর্ন হয়তো কয়েক সেকেন্ডের জন্য আপনার বিরক্তি প্রকাশ করে, কিন্তু সেটিই কোনো অসুস্থ রোগীর কষ্ট বাড়াতে পারে, কোনো শিক্ষার্থীর মনোযোগ ভেঙে দিতে পারে, কিংবা কোনো বৃদ্ধ মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলতে পারে।

আজ সময় এসেছে এই নীরব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি আমাদের মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি। আমরা যদি প্রত্যেকে নিজের দায়িত্ব পালন করি, তাহলে শব্দদূষণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

আসুন, প্রতিজ্ঞা করি, অপ্রয়োজনে হর্ন নয়, অবৈধ একজস্ট নয়; নিরাপদ, শান্ত ও মানবিক সড়কই হোক আমাদের অঙ্গীকার। কারণ, একটি সভ্য সমাজের শব্দ সবচেয়ে জোরে শোনা যায় তার শৃঙ্খলায়, হর্নে নয়।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শব্দদূষণের নীরব আগ্রাসন

প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
শব্দদূষণের নীরব আগ্রাসন      লেখক : শহীদুল ইসলাম (সহকারী অধ্যাপক ও কলামিস্ট)একটি সভ্য জাতির পরিচয় শুধু তার উন্নত সড়ক, আধুনিক যানবাহন কিংবা উঁচু অট্টালিকায় নয়; বরং তার নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশের সড়কে এমন এক অসভ্য সংস্কৃতি দিন দিন বিস্তার লাভ করছে, যা শুধু বিরক্তির কারণ নয়-এটি জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং সড়ক নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ হুমকিতে পরিণত হয়েছে। অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানো এবং বিকট শব্দ সৃষ্টি করে এমন পরিবর্তিত (Modified) একজস্ট ব্যবহার যেন এক ধরনের সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে।ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায়ও হর্ন, ফাঁকা রাস্তায় হর্ন, সামান্য ধীরগতির জন্য হর্ন, এ যেন এক অদ্ভুত প্রতিযোগিতা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িতে অবৈধভাবে পরিবর্তিত একজস্ট লাগিয়ে বিকট শব্দ সৃষ্টি করা। অনেকেই এটিকে ফ্যাশন বা আধিপত্যের প্রতীক মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে এটি অন্যের শান্তি, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত।বাংলাদেশে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ অনুযায়ী নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আদালত এবং নীরব এলাকা (Silent Zone)-এ অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একইভাবে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী যানবাহনের অনুমোদিত কাঠামো পরিবর্তন করে অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি করে এমন একজস্ট ব্যবহার আইনসম্মত নয়। প্রয়োজনে জরিমানা, যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কিংবা অবৈধ যন্ত্রাংশ অপসারণের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের রয়েছে।তবুও বাস্তবতা হলো আইন থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগ এখনও সীমিত। মাঝে মাঝে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হলেও কিছুদিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। ফলে অনেক চালক মনে করেন, এই অপরাধের কোনো বাস্তব শাস্তি নেই।বিশ্বের উন্নত দেশগুলো ভিন্ন পথ দেখিয়েছে। যুক্তরাজ্যে রাতের নির্দিষ্ট সময়ে আবাসিক এলাকায় অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানো আইনত নিষিদ্ধ। জার্মানিতে নির্ধারিত শব্দমাত্রার বাইরে একজস্ট ব্যবহার করলে শুধু জরিমানাই নয়, গাড়ির রেজিস্ট্রেশনও বাতিল হতে পারে। জাপানে অকারণে হর্ন বাজানোকে অত্যন্ত অসৌজন্যমূলক আচরণ হিসেবে দেখা হয়। সিঙ্গাপুরে অনুমোদনহীন একজস্ট ব্যবহার করলে বড় অঙ্কের জরিমানা, এমনকি যানবাহন জব্দের ব্যবস্থাও রয়েছে। উন্নত দেশগুলো বুঝেছে শব্দদূষণও বায়ুদূষণের মতোই জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত শব্দের মধ্যে থাকলে মানুষের শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, অনিদ্রা, উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায়। শিশুদের স্মৃতিশক্তি ও শেখার সক্ষমতাও কমে যেতে পারে। হাসপাতালের রোগীরা সুস্থ হতে দেরি করেন, পরীক্ষার্থীরা মনোযোগ হারান, নবজাতক ও বয়স্করা তীব্র অস্বস্তিতে ভোগেন। শুধু মানুষই নয়, অতিরিক্ত শব্দে পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হয়।সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অনেক সময় হঠাৎ বিকট শব্দে পথচারী বা অন্য চালক চমকে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। অর্থাৎ অপ্রয়োজনীয় হর্ন ও বিকট একজস্ট শুধু শব্দদূষণই নয়, সড়ক দুর্ঘটনারও একটি পরোক্ষ কারণ।এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পরিবহন মালিক, চালক এবং সাধারণ নাগরিক সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।সরকারের উচিত-সারা দেশে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা।অবৈধ একজস্ট উৎপাদন, আমদানি ও বিক্রি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।সিসিটিভি ও শব্দমাত্রা পরিমাপক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আইন প্রয়োগ জোরদার করা।প্রতিটি জেলা ও মহানগরে শব্দদূষণবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা।গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা বৃদ্ধি করা।অন্যদিকে, আমাদের চালকদেরও কিছু নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে-প্রয়োজন ছাড়া কখনো হর্ন বাজাব না।বিকট শব্দের অবৈধ একজস্ট ব্যবহার করব না।হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও আবাসিক এলাকায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করব।ট্রাফিক আইন মেনে ধৈর্যের সঙ্গে গাড়ি চালাব।অন্য চালকদেরও সচেতন হতে উৎসাহিত করব।মনে রাখতে হবে, একজন ভালো চালকের পরিচয় তার গাড়ির গতি বা শব্দে নয়; বরং তার ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও মানবিকতায়। একটি অপ্রয়োজনীয় হর্ন হয়তো কয়েক সেকেন্ডের জন্য আপনার বিরক্তি প্রকাশ করে, কিন্তু সেটিই কোনো অসুস্থ রোগীর কষ্ট বাড়াতে পারে, কোনো শিক্ষার্থীর মনোযোগ ভেঙে দিতে পারে, কিংবা কোনো বৃদ্ধ মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলতে পারে।আজ সময় এসেছে এই নীরব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি আমাদের মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি। আমরা যদি প্রত্যেকে নিজের দায়িত্ব পালন করি, তাহলে শব্দদূষণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।আসুন, প্রতিজ্ঞা করি, অপ্রয়োজনে হর্ন নয়, অবৈধ একজস্ট নয়; নিরাপদ, শান্ত ও মানবিক সড়কই হোক আমাদের অঙ্গীকার। কারণ, একটি সভ্য সমাজের শব্দ সবচেয়ে জোরে শোনা যায় তার শৃঙ্খলায়, হর্নে নয়।

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
শব্দদূষণের নীরব আগ্রাসন
0:00 0:00
1.0x