জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
সারাদেশ

সারাদেশ

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের বিরূপ প্রতিক্রিয়া, চাপে পড়বে নিম্ন আয়ের মানুষ

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের বিরূপ প্রতিক্রিয়া, চাপে পড়বে নিম্ন আয়ের মানুষ

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির খবরে সাভার ও আশুলিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন ব্যয়, পণ্য পরিবহন, কৃষি ও বিভিন্ন সেবার খরচ বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। বিশেষ করে প্রতিদিন কর্মস্থলে যাতায়াতকারী শ্রমিক, রিকশা-অটোরিকশা চালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দিনমজুরদের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বাস, লেগুনা, অটোরিকশা ও অন্যান্য গণপরিবহনে চলাচল করেন। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পরিবহন খাতে পড়লে ভাড়া বাড়ার আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা। এতে মাসিক আয়ের একটি বড় অংশ যাতায়াতেই ব্যয় হতে পারে বলে মনে করছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ।

সাভারের হেমায়েতপুর এলাকার এক পোশাকশ্রমিক বলেন, আমাদের বেতন খুব বেশি নয়। প্রতিদিন বাস ও অন্যান্য যানবাহনে যাতায়াত করতে হয়। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে যদি পরিবহন ভাড়া বেড়ে যায়, তাহলে সংসারের খরচ সামলানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকার এক শ্রমিক বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম এমনিতেই অনেকের নাগালের বাইরে। এর মধ্যে তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ভাড়া ও পণ্যের দামও বাড়তে পারে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের ওপরই এর চাপ বেশি পড়বে।

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব শুধু পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন পণ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহনে জ্বালানি খরচ হওয়ায় পরিবহন ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব পণ্যের দামের ওপরও পড়তে পারে। ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন ক্রেতারা।

সাভার বাজার এলাকার এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, পণ্য আনার খরচ বেড়ে গেলে আমাদেরও বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করতে হয়। কিন্তু দাম বাড়ালে ক্রেতারা সমস্যায় পড়েন, আবার দাম না বাড়ালে ব্যবসায়ীদের লোকসান হয়। তাই জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব ব্যবসার ওপরও পড়বে।

অন্যদিকে অন্যান্য ছোট যানবাহনের চালকরাও জ্বালানি ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

আশুলিয়ার এক বাস চালক বলেন, তেলের দাম বাড়লে গাড়ি চালানোর খরচ বেড়ে যাবে। যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া চাইলে তারা অসন্তুষ্ট হন। আবার ভাড়া না বাড়ালে আমাদের আয় কমে যায়। দুই দিক থেকেই চালকদের সমস্যা।

সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন সড়কে প্রতিদিন কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। তাদের অনেকেই দূরবর্তী এলাকা থেকে সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে আসেন। পরিবহন ব্যয় বাড়লে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর সরাসরি চাপ তৈরি হবে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার এক নারী পোশাকশ্রমিক বলেন, সংসারের আয় সীমিত। বাসা ভাড়া, খাবার, সন্তানদের পড়াশোনা—সবকিছু সামলাতে হয়। যাতায়াতের খরচ যদি আরও বেড়ে যায়, তাহলে সংসারের অন্য খরচ কমাতে হবে।

এদিকে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মধ্যেও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সরাসরি পরিবহন খরচের পাশাপাশি বাজারের অন্যান্য পণ্যের দামও প্রভাবিত হতে পারে। এতে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর মাসিক বাজেট সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

সাভারের এক সাধারণ যাত্রী বলেন, তেলের দাম বাড়লে প্রথমে পরিবহন ভাড়া বাড়ে, এরপর ধীরে ধীরে বাজারের বিভিন্ন পণ্যের দামেও তার প্রভাব দেখা যায়। তাই দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সাধারণ মানুষের আয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা জরুরি।

সচেতন মহলের মতে, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি হলে এর প্রভাব যাতে অস্বাভাবিকভাবে পরিবহন ভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে না পড়ে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো দরকার। একই সঙ্গে পরিবহন খাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং বাজারে পণ্যের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

সাভার ও আশুলিয়ার শ্রমজীবী মানুষের বড় একটি অংশ নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল। তাই জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর পরিবহন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে তাদের প্রকৃত ব্যয়ভার আরও বাড়তে পারে। ফলে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের বিরূপ প্রতিক্রিয়া, চাপে পড়বে নিম্ন আয়ের মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির খবরে সাভার ও আশুলিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন ব্যয়, পণ্য পরিবহন, কৃষি ও বিভিন্ন সেবার খরচ বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। বিশেষ করে প্রতিদিন কর্মস্থলে যাতায়াতকারী শ্রমিক, রিকশা-অটোরিকশা চালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দিনমজুরদের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বাস, লেগুনা, অটোরিকশা ও অন্যান্য গণপরিবহনে চলাচল করেন। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পরিবহন খাতে পড়লে ভাড়া বাড়ার আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা। এতে মাসিক আয়ের একটি বড় অংশ যাতায়াতেই ব্যয় হতে পারে বলে মনে করছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ।সাভারের হেমায়েতপুর এলাকার এক পোশাকশ্রমিক বলেন, আমাদের বেতন খুব বেশি নয়। প্রতিদিন বাস ও অন্যান্য যানবাহনে যাতায়াত করতে হয়। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে যদি পরিবহন ভাড়া বেড়ে যায়, তাহলে সংসারের খরচ সামলানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকার এক শ্রমিক বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম এমনিতেই অনেকের নাগালের বাইরে। এর মধ্যে তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ভাড়া ও পণ্যের দামও বাড়তে পারে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের ওপরই এর চাপ বেশি পড়বে।জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব শুধু পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন পণ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহনে জ্বালানি খরচ হওয়ায় পরিবহন ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব পণ্যের দামের ওপরও পড়তে পারে। ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন ক্রেতারা।সাভার বাজার এলাকার এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, পণ্য আনার খরচ বেড়ে গেলে আমাদেরও বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করতে হয়। কিন্তু দাম বাড়ালে ক্রেতারা সমস্যায় পড়েন, আবার দাম না বাড়ালে ব্যবসায়ীদের লোকসান হয়। তাই জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব ব্যবসার ওপরও পড়বে।অন্যদিকে অন্যান্য ছোট যানবাহনের চালকরাও জ্বালানি ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।আশুলিয়ার এক বাস চালক বলেন, তেলের দাম বাড়লে গাড়ি চালানোর খরচ বেড়ে যাবে। যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া চাইলে তারা অসন্তুষ্ট হন। আবার ভাড়া না বাড়ালে আমাদের আয় কমে যায়। দুই দিক থেকেই চালকদের সমস্যা।সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন সড়কে প্রতিদিন কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। তাদের অনেকেই দূরবর্তী এলাকা থেকে সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে আসেন। পরিবহন ব্যয় বাড়লে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর সরাসরি চাপ তৈরি হবে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার এক নারী পোশাকশ্রমিক বলেন, সংসারের আয় সীমিত। বাসা ভাড়া, খাবার, সন্তানদের পড়াশোনা—সবকিছু সামলাতে হয়। যাতায়াতের খরচ যদি আরও বেড়ে যায়, তাহলে সংসারের অন্য খরচ কমাতে হবে।এদিকে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মধ্যেও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সরাসরি পরিবহন খরচের পাশাপাশি বাজারের অন্যান্য পণ্যের দামও প্রভাবিত হতে পারে। এতে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর মাসিক বাজেট সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।সাভারের এক সাধারণ যাত্রী বলেন, তেলের দাম বাড়লে প্রথমে পরিবহন ভাড়া বাড়ে, এরপর ধীরে ধীরে বাজারের বিভিন্ন পণ্যের দামেও তার প্রভাব দেখা যায়। তাই দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সাধারণ মানুষের আয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা জরুরি।সচেতন মহলের মতে, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি হলে এর প্রভাব যাতে অস্বাভাবিকভাবে পরিবহন ভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে না পড়ে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো দরকার। একই সঙ্গে পরিবহন খাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং বাজারে পণ্যের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।সাভার ও আশুলিয়ার শ্রমজীবী মানুষের বড় একটি অংশ নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল। তাই জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর পরিবহন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে তাদের প্রকৃত ব্যয়ভার আরও বাড়তে পারে। ফলে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের বিরূপ প্রতিক্রিয়া, চাপে পড়বে নিম্ন আয়ের মানুষ
0:00 0:00
1.0x