থানার নাম-পরিচয় ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
মুরাদনগর থানা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম-পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে মো. দুলাল সরকার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত আবেদন ও সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্ট জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
লিখিত আবেদনে অভিযোগ করা হয়, মো. দুলাল সরকার বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের সময় নিজেকে থানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং ‘যুগ্ম আহ্বায়ক’ হিসেবে পরিচয় দেন। এ সময় থানার নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে ফোনালাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মানসিক চাপ সৃষ্টি কিংবা বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আবেদনকারী পক্ষ দাবি করেছে।
আবেদনকারী পক্ষের অভিযোগ, কোনো ব্যক্তি যদি প্রকৃত কর্তৃত্ব বা অনুমোদন ছাড়া থানা, পুলিশ কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। এ ধরনের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য হয়রানির কারণ হতে পারে না, বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ও সাধারণ মানুষের আস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে প্রবাসী পরিবার, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও সাধারণ নাগরিকরা কোনো ব্যক্তির কথিত প্রভাবশালী পরিচয়ে ভয় বা মানসিক চাপে পড়তে পারেন—এমন আশঙ্কার কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও অভিযোগ
আবেদনকারী পক্ষ আরও দাবি করেছে, মো. দুলাল সরকার অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে নিজেকে বিএনপির পরিচয়ে উপস্থাপন করে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করছেন। তবে এসব রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয় সংশ্লিষ্ট দলীয় নথি বা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাঁর বর্তমান বা অতীত সম্পৃক্ততার বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্যও জানা যায়নি।
হাতিরঝিল থানার মামলার তথ্য যাচাইয়ের দাবি
লিখিত আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মো. দুলাল সরকারের বিরুদ্ধে ঢাকার হাতিরঝিল থানায় মামলা নম্বর-২১, তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০২৪ সংক্রান্ত তথ্য আবেদনকারী পক্ষ পেয়েছে বলে দাবি করেছে।
তবে আবেদনকারী পক্ষ নিজেরাও ওই মামলার তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে মামলাটি আদৌ তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে কি না, মামলার ধারা কী, মামলার বর্তমান অবস্থা কী—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট থানা ও আইনগত নথির মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
আবেদনকারী পক্ষ মুরাদনগর থানার কাছে অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। বিশেষ করে—
থানার নাম বা পরিচয় ব্যবহার করে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে কি না;
কোনো ব্যক্তি নিজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন কি না;
ফোনালাপের মাধ্যমে ভয়ভীতি বা চাপ প্রয়োগের অভিযোগের সত্যতা রয়েছে কি না;
‘যুগ্ম আহ্বায়ক’ পরিচয়ের বৈধতা ও সংশ্লিষ্টতা কী;
হাতিরঝিল থানার কথিত মামলার তথ্য সত্য কি না;
অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের সত্যতা কী—
এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবেদনকারী পক্ষের ভাষ্য, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগের কোনো অংশ সত্য না হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশের আহ্বান
আবেদনকারী পক্ষ বলেছে, তারা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, সংঘাত বা সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চায় না। বরং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই তাদের প্রত্যাশা।
এলাকাবাসীর পক্ষে সৌদি প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা সমাজ কল্যাণ পরিষদ ১০১ টিমের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে অভিযোগটি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
তবে মো. দুলাল সরকারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও যাচাই সাপেক্ষে নিশ্চিত হতে হবে। একইভাবে হাতিরঝিল থানায় মামলা থাকার দাবিও সরকারি নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে মো. দুলাল সরকারের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে সংযুক্ত করা হবে। অভিযোগের তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, একই সঙ্গে কেউ অপরাধ করে থাকলে যেন আইনের আওতায় আসেন—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত