জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

তাড়াইলে আমন ধান রোপণে ব্যস্ত কৃষক, বৃষ্টির ঘাটতিতে বাড়ছে সেচ খরচ

তাড়াইলে আমন ধান রোপণে ব্যস্ত কৃষক, বৃষ্টির ঘাটতিতে বাড়ছে সেচ খরচ

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে আমন ধান চাষে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে একসঙ্গে চলছে জমি প্রস্তুত, বীজতলা থেকে চারা তোলা ও রোপণের কাজ। তবে মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেক কৃষককে সেচের পানি ব্যবহার করে জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণ করতে হচ্ছে। এতে বেড়েছে উৎপাদন খরচ।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সরেজমিনে তাড়াইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোথাও কৃষকেরা জমিতে হালচাষ ও মই দিয়ে জমি প্রস্তুত করছেন, আবার কোথাও বীজতলা থেকে চারা তুলে রোপণের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। অনেক জমিতে কৃষক ও শ্রমিকদের দলবদ্ধভাবে চারা রোপণ করতেও দেখা গেছে।

কৃষকেরা জানান, ইতোমধ্যে উপজেলার প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে বাকি জমিতেও রোপণ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তাড়াইলে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৮২৩ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে হাইব্রিড ৫৪০ হেক্টর, উফশী ৭ হাজার ২৮০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ৩ হেক্টর।

কৃষি বিভাগের হিসাবে, এরই মধ্যে হাইব্রিড ৫০০, উফশী ৪ হাজার ৯৫০ এবং স্থানীয় জাতের ৩ হেক্টরসহ মোট ৫ হাজার ৪৫৩ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৭০ শতাংশ।

কৃষি বিভাগ বলছে, আমন আবাদের বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পাশাপাশি তা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে ভাদ্র মাসে প্রত্যাশিত বৃষ্টি না হওয়ায় চাষাবাদে কিছুটা বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

কৃষকদের ভাষ্য, আমনের চারা নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে জমিতে রোপণ করা জরুরি। দেরি হলে চারার বয়স বেড়ে যেতে পারে এবং এতে ফলনের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বৃষ্টির অপেক্ষায় না থেকে অনেকেই গভীর ও অগভীর নলকূপের পানি ব্যবহার করে জমিতে সেচ দিচ্ছেন।

তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের কালনা গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান ও ফজলুর রহমান জানান, সময়মতো বৃষ্টি না পাওয়ায় চারা রোপণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। পাশাপাশি সেচের পানি ব্যবহার করায় প্রতি বিঘায় অতিরিক্ত প্রায় ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হচ্ছে। ধানের ফলন ও বাজারদর ভালো থাকলে এই বাড়তি খরচ সামাল দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।

তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বিকাশ রায় বলেন, আবহাওয়া মোটামুটি অনুকূলে থাকায় আমন আবাদে ভালো অগ্রগতি হয়েছে। জমি থেকে দ্রুত পানি সরে যাওয়ায় চাষাবাদেও বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি অতিরিক্ত জমিতেও আমন আবাদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। বৃষ্টির ঘাটতি ও সেচের বাড়তি খরচের বিষয়টি মোকাবিলা করে কৃষকেরা এবারও আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবেন বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


তাড়াইলে আমন ধান রোপণে ব্যস্ত কৃষক, বৃষ্টির ঘাটতিতে বাড়ছে সেচ খরচ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image
কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে আমন ধান চাষে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে একসঙ্গে চলছে জমি প্রস্তুত, বীজতলা থেকে চারা তোলা ও রোপণের কাজ। তবে মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেক কৃষককে সেচের পানি ব্যবহার করে জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণ করতে হচ্ছে। এতে বেড়েছে উৎপাদন খরচ।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সরেজমিনে তাড়াইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোথাও কৃষকেরা জমিতে হালচাষ ও মই দিয়ে জমি প্রস্তুত করছেন, আবার কোথাও বীজতলা থেকে চারা তুলে রোপণের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। অনেক জমিতে কৃষক ও শ্রমিকদের দলবদ্ধভাবে চারা রোপণ করতেও দেখা গেছে।কৃষকেরা জানান, ইতোমধ্যে উপজেলার প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে বাকি জমিতেও রোপণ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তাড়াইলে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৮২৩ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে হাইব্রিড ৫৪০ হেক্টর, উফশী ৭ হাজার ২৮০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ৩ হেক্টর।কৃষি বিভাগের হিসাবে, এরই মধ্যে হাইব্রিড ৫০০, উফশী ৪ হাজার ৯৫০ এবং স্থানীয় জাতের ৩ হেক্টরসহ মোট ৫ হাজার ৪৫৩ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৭০ শতাংশ।কৃষি বিভাগ বলছে, আমন আবাদের বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পাশাপাশি তা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে ভাদ্র মাসে প্রত্যাশিত বৃষ্টি না হওয়ায় চাষাবাদে কিছুটা বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।কৃষকদের ভাষ্য, আমনের চারা নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে জমিতে রোপণ করা জরুরি। দেরি হলে চারার বয়স বেড়ে যেতে পারে এবং এতে ফলনের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বৃষ্টির অপেক্ষায় না থেকে অনেকেই গভীর ও অগভীর নলকূপের পানি ব্যবহার করে জমিতে সেচ দিচ্ছেন।তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের কালনা গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান ও ফজলুর রহমান জানান, সময়মতো বৃষ্টি না পাওয়ায় চারা রোপণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। পাশাপাশি সেচের পানি ব্যবহার করায় প্রতি বিঘায় অতিরিক্ত প্রায় ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হচ্ছে। ধানের ফলন ও বাজারদর ভালো থাকলে এই বাড়তি খরচ সামাল দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বিকাশ রায় বলেন, আবহাওয়া মোটামুটি অনুকূলে থাকায় আমন আবাদে ভালো অগ্রগতি হয়েছে। জমি থেকে দ্রুত পানি সরে যাওয়ায় চাষাবাদেও বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি অতিরিক্ত জমিতেও আমন আবাদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তিনি আরও বলেন, কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। বৃষ্টির ঘাটতি ও সেচের বাড়তি খরচের বিষয়টি মোকাবিলা করে কৃষকেরা এবারও আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবেন বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
তাড়াইলে আমন ধান রোপণে ব্যস্ত কৃষক, বৃষ্টির ঘাটতিতে বাড়ছে সেচ খরচ
0:00 0:00
1.0x