জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

দিনাজপুরে পাটের বেচাকেনা জমজমাট, ৩৫ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা

দিনাজপুরে পাটের বেচাকেনা জমজমাট, ৩৫ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা
দিনাজপুরের খানসামার পাকেরহাট থেকে পাট ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে পাইকাররা।

ভোরের আলো ফোটার আগেই দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পাকেরহাটে শুরু হয় পাটের বেচাকেনা। প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার বসা এ হাটে কৃষকের পাশাপাশি ব্যস্ত সময় পার করেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। ডিজিটাল পাল্লায় ওজন, পাটের মান যাচাই আর দরদামে জমে ওঠে হাট।

চলতি মৌসুমে খানসামায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৬৭৫ হেক্টর। এবার আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে উপজেলায় পাট উৎপাদন হয়েছে ১৯ হাজার ২৩৬ বেল। বর্তমান বাজারদর ভালো থাকায় এ পাট থেকে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

পাকেরহাটে বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। উন্নত মানের উজ্জ্বল ও শক্ত আঁশের পাটে মিলছে তুলনামূলক বেশি দাম। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও লাভের আশা করছেন কৃষকরা।

আঙ্গারপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ বলেন, এ বছর পাটের দাম ভালো পেয়েছি। পাট চাষ করে ভালো দাম পাওয়ায় আমরা কৃষকরা খুশি। পরিশ্রম ও খরচের তুলনায় ভালো দাম পেলে আগামীতে পাট চাষে আমাদের আগ্রহ আরও বাড়বে।

পাট ব্যবসায়ী এন্তাজুল ইসলাম বলেন, খানসামার পাটের মান ভালো। তাই প্রতিবছর এখানে পাট কিনতে আসি। ভালো মানের পাটের চাহিদাও রয়েছে। এ বছর বাজার ভালো থাকায় কৃষকরা যেমন ভালো দাম পাচ্ছেন, আমরাও মানসম্মত পাট কিনতে পারছি।

খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার বলেন, পাট এলাকার কৃষক ও গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফসল। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আবাদ বৃদ্ধির পাশাপাশি ফলনও ভালো হয়েছে এবং কৃষকরা সন্তোষজনক দাম পাচ্ছেন। সঠিক সময়ে পাট কাটা, যথাযথভাবে জাগ দেওয়া ও ভালোভাবে শুকানোর মাধ্যমে মানসম্মত পাট উৎপাদন করতে হবে। বাজার স্থিতিশীল থাকলে আগামীতে খানসামায় পাটের আবাদ আরও বাড়তে পারে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দিনাজপুরে পাটের বেচাকেনা জমজমাট, ৩৫ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image
ভোরের আলো ফোটার আগেই দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পাকেরহাটে শুরু হয় পাটের বেচাকেনা। প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার বসা এ হাটে কৃষকের পাশাপাশি ব্যস্ত সময় পার করেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। ডিজিটাল পাল্লায় ওজন, পাটের মান যাচাই আর দরদামে জমে ওঠে হাট।চলতি মৌসুমে খানসামায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৬৭৫ হেক্টর। এবার আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে উপজেলায় পাট উৎপাদন হয়েছে ১৯ হাজার ২৩৬ বেল। বর্তমান বাজারদর ভালো থাকায় এ পাট থেকে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।পাকেরহাটে বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। উন্নত মানের উজ্জ্বল ও শক্ত আঁশের পাটে মিলছে তুলনামূলক বেশি দাম। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও লাভের আশা করছেন কৃষকরা।আঙ্গারপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ বলেন, এ বছর পাটের দাম ভালো পেয়েছি। পাট চাষ করে ভালো দাম পাওয়ায় আমরা কৃষকরা খুশি। পরিশ্রম ও খরচের তুলনায় ভালো দাম পেলে আগামীতে পাট চাষে আমাদের আগ্রহ আরও বাড়বে।পাট ব্যবসায়ী এন্তাজুল ইসলাম বলেন, খানসামার পাটের মান ভালো। তাই প্রতিবছর এখানে পাট কিনতে আসি। ভালো মানের পাটের চাহিদাও রয়েছে। এ বছর বাজার ভালো থাকায় কৃষকরা যেমন ভালো দাম পাচ্ছেন, আমরাও মানসম্মত পাট কিনতে পারছি।খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার বলেন, পাট এলাকার কৃষক ও গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফসল। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আবাদ বৃদ্ধির পাশাপাশি ফলনও ভালো হয়েছে এবং কৃষকরা সন্তোষজনক দাম পাচ্ছেন। সঠিক সময়ে পাট কাটা, যথাযথভাবে জাগ দেওয়া ও ভালোভাবে শুকানোর মাধ্যমে মানসম্মত পাট উৎপাদন করতে হবে। বাজার স্থিতিশীল থাকলে আগামীতে খানসামায় পাটের আবাদ আরও বাড়তে পারে।

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
দিনাজপুরে পাটের বেচাকেনা জমজমাট, ৩৫ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা
0:00 0:00
1.0x