জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষাঙ্গন

তাড়াইল উপজেলায় প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৩৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

তাড়াইল উপজেলায় প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৩৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

দীর্ঘদিন ধরে নতুন নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকসংকট দেখা দিয়েছে। কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

এর মধ্যে ৩৩টিতেই নেই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নিয়মিত পাঠদান খুঁড়িয়ে চলছে। 

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া এবং অবসরজনিত কারণে একের পর এক পদ শূন্য হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক একটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়, পাঠদান তদারকি, দাপ্তরিক কার্যক্রম, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নসহ নানা দায়িত্ব পালন করতে হয় তাকে। প্রধান শিক্ষক না থাকা বিদ্যালয়গুলোতে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে কাউকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে একদিকে তাদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হচ্ছে, অন্যদিকে সামলাতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব। ফলে তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অভিভাবকদের মতে, প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ভিত্তি গড়ে তোলে। সেখানে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়তে পারে। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

দায়িত্বরত কয়েকজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা হলে তারা জানান, দাপ্তরিক কাজে অফিসে যাতায়াত করার কারণে প্রায়ই ক্লাশ মিস হয় এবং অন্যান্য শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাশ নিতে হয়। প্রধান শিক্ষক না থাকায় একই কাজ আমাদের দ্বিগুণ করতে হয়। অথচ আমরা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করলেও বেতন সহকারী শিক্ষকের পাই। সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি, দ্রুত যেন প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ করা হয়। 

এ বিষয়ে তাড়াইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনামুল হক খান জানান, শিক্ষকসংকটের কারণে পাঠদানে সৃষ্ট সমস্যার বিষয়টি তারা অবগত আছেন। শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত জানানো হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


তাড়াইল উপজেলায় প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৩৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
দীর্ঘদিন ধরে নতুন নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকসংকট দেখা দিয়েছে। কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।এর মধ্যে ৩৩টিতেই নেই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নিয়মিত পাঠদান খুঁড়িয়ে চলছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া এবং অবসরজনিত কারণে একের পর এক পদ শূন্য হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।প্রধান শিক্ষক একটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়, পাঠদান তদারকি, দাপ্তরিক কার্যক্রম, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নসহ নানা দায়িত্ব পালন করতে হয় তাকে। প্রধান শিক্ষক না থাকা বিদ্যালয়গুলোতে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে কাউকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে একদিকে তাদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হচ্ছে, অন্যদিকে সামলাতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব। ফলে তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।অভিভাবকদের মতে, প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ভিত্তি গড়ে তোলে। সেখানে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়তে পারে। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণের দাবি জানিয়েছেন তারা।দায়িত্বরত কয়েকজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা হলে তারা জানান, দাপ্তরিক কাজে অফিসে যাতায়াত করার কারণে প্রায়ই ক্লাশ মিস হয় এবং অন্যান্য শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাশ নিতে হয়। প্রধান শিক্ষক না থাকায় একই কাজ আমাদের দ্বিগুণ করতে হয়। অথচ আমরা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করলেও বেতন সহকারী শিক্ষকের পাই। সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি, দ্রুত যেন প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ করা হয়। এ বিষয়ে তাড়াইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনামুল হক খান জানান, শিক্ষকসংকটের কারণে পাঠদানে সৃষ্ট সমস্যার বিষয়টি তারা অবগত আছেন। শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত জানানো হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
তাড়াইল উপজেলায় প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৩৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
0:00 0:00
1.0x