আন্তর্জাতিক প্রজেক্ট শোকেসিং প্রতিযোগিতা Fibonacci International Robot and STEM Olympiad (FIRSO)-এ গোল্ড মেডেল অর্জন করেছে সরকারি তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রজেক্ট ‘স্বাস্থ্য বন্ধু (Sastho Bondhu)’। ন্যাশনাল জোনে এই সাফল্যের পর প্রজেক্টটি ইতালির রোমে অনুষ্ঠিতব্য Global Finals-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নির্বাচিত হয়েছে।
সরকারি তোলারাম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. তাহমিদ ইসলাম হৃদম (প্রজেক্ট লিডার) এবং প্রতীম কান্তি সরকার শান্তনু যৌথভাবে ‘স্বাস্থ্য বন্ধু’ প্রজেক্টটি তৈরি করেন। তাঁদের এই অর্জনে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে।
কলেজ সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি গবেষণা, উদ্ভাবন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সরকারি তোলারাম কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শহীদুল ইসলাম এর আগে কিছুদিন উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সময় থেকেই তিনি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সৃজনশীলতা, গবেষণা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে উদ্যোগী ছিলেন। অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরও তিনি এ ধরনের কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বারোপ করছেন। তাঁর নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়েছে।
সম্প্রতি সরকারি তোলারাম কলেজে বিজ্ঞান ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। প্রফেসর ড. কায়কোবাদ এর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি গণিত অলিম্পিয়াড আয়োজনসহ শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, গণিত, গবেষণা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
‘স্বাস্থ্য বন্ধু’ প্রজেক্টের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাওয়ার পেছনে কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মিঠুন বিশ্বাসের মেন্টরশিপ ও দিকনির্দেশনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রজেক্টটি প্রস্তুত, উপস্থাপন ও প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছেন।
অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার বিকাশ ঘটানো আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। ‘স্বাস্থ্য বন্ধু’র এই অর্জন আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের।”
তিনি আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য যেমন বড় অর্জন, তেমনি এটি সরকারি তোলারাম কলেজের জন্যও গর্বের বিষয়। রোমের Global Finals-এ শিক্ষার্থীরা নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে অংশগ্রহণ করবে এবং দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
উল্লেখ্য, FIRSO-এর ন্যাশনাল জোনের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ান দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি Alexandra A. Khlevnoy।
কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, ইতালির রোমে অনুষ্ঠিতব্য Global Finals-এ ‘স্বাস্থ্য বন্ধু’ প্রজেক্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের পতাকা এবং সরকারি তোলারাম কলেজের সুনাম আরও উজ্জ্বল হবে।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত