জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
সারাদেশ

সারাদেশ

চৌগাছায় ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলা ঘিরে উৎসবের আমেজ ১৫ দিনব্যাপী মেলা, দূর-দূরান্ত থেকে ভক্ত-দর্শনার্থীদের সমাগম

চৌগাছায় ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলা ঘিরে উৎসবের আমেজ ১৫ দিনব্যাপী মেলা, দূর-দূরান্ত থেকে ভক্ত-দর্শনার্থীদের সমাগম

চৌগাছায় ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলা ঘিরে উৎসবের আমেজ ১৫ দিনব্যাপী মেলা, দূর-দূরান্ত থেকে ভক্ত-দর্শনার্থীদের সমাগম

চৌগাছায় ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলা ঘিরে উৎসবের আমেজ
১৫ দিনব্যাপী মেলা, দূর-দূরান্ত থেকে ভক্ত-দর্শনার্থীদের সমাগম
এম এ মান্নান, চৌগাছা (যশোর) :
যশোরের চৌগাছায় কপোতাক্ষ নদের তীরে ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলা ঘিরে গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় বইছে আনন্দের ফোয়ারা। উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের হাজরাখানা গ্রামে পীর বলুহ দেওয়ান (র.)-এর রওজা শরীফকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারও বসেছে এ মেলা। দূর-দূরান্ত থেকে ভক্ত, দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীরা এসে জড়ো হয়েছেন। মেলাকে ঘিরে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। মেলা পরিচালনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক শর্ত দেওয়া হয়েছে। মেলা কমিটি জানিয়েছে, শর্ত মেনে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে মেলা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বাংলা সনের ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবারকে কেন্দ্র করে পীর বলুহ দেওয়ান (র.)-এর রওজা শরীফে ওরশ অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে বসে ঐতিহ্যবাহী এ মেলা। মেলা উপলক্ষে ভাদ্র মাসের শেষ দিকে এলাকার মেয়ে-জামাইদের বাপের বাড়িতে আসার রীতিও দীর্ঘদিনের। ফলে মেলাকে ঘিরে শুধু হাজরাখানা নয়, আশপাশের গ্রাম ও পাশের উপজেলাগুলোতেও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।
মেলায় বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট বসেছে। কাঠের তৈরি আসবাবপত্র, স্টিলের সামগ্রী, অটবি ও শিশুদের খেলনাসহ নানা পণ্য নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এসেছেন। কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, তারা প্রতিবছর এ মেলায় দোকান বসান। এবারও মেলা শুরুর আগেই তারা হাজরাখানায় এসে দোকান সাজিয়েছেন।
ফরিদপুর থেকে আসা লুৎফর রহমান বলেন, কোনো প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবার এলেই তারা পীরের রওজা শরীফে চলে আসেন। যুগ যুগ ধরে ওরশের পাশাপাশি এ মেলাও হয়ে আসছে।
কুষ্টিয়ার আনোয়ারা খাতুন, শরীয়তপুরের চাইনা, ঝিনাইদহের রাশেদা, ঢাকার বিক্রমপুরের মামুন খান, নারায়ণগঞ্জের সোহেল পাগল, যশোরের ঘোপের নূর ইসলাম, চুড়ামনকাঠির আব্দুর রহমান, ভেড়ামারার উম্মে হাবিবা এবং চৌগাছার মুক্তদাহ গ্রামের রেজাউল ইসলামসহ বিভিন্ন এলাকার ভক্তরা রওজা শরীফে এসে জিকির ও ইবাদতে অংশ নিচ্ছেন। তারা জানান, রওজা শরীফের পক্ষ থেকে তাদের নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
পীর বলুহ দেওয়ানকে ঘিরে নানা জনশ্রুতি
পীর বলুহ দেওয়ান (র.)-কে ঘিরে এ অঞ্চলে রয়েছে নানা লোককথা ও জনশ্রুতি। স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর জন্ম ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বড় ধোপাদি গ্রামে। তাঁর পিতার নাম ছুটি বিশ্বাস। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া বলুহ ছোটবেলায় হাজরাখানা গ্রামে তাঁর মামার বাড়িতে চলে আসেন। সেখানে থেকে তিনি বিভিন্ন বাড়িতে ও ক্ষেত-খামারে কাজ করতেন।
স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত জনশ্রুতি অনুযায়ী, একবার তিনি গরু চরাতে গিয়ে গাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। গরুগুলো অন্যের ফসলের ক্ষেতে ঢুকে পড়লে ক্ষেতের মালিক সেগুলো খোয়াড়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তখন বলুহ গরুগুলোকে বক বানিয়ে গাছের ডালে বসিয়ে দেন—এমন কাহিনি স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে।
এ ছাড়া সরিষার গাদায় আগুন লাগিয়ে দেওয়ার পরও সরিষা অক্ষত থাকার মতো আরও নানা অলৌকিক কাহিনি তাঁকে ঘিরে এলাকায় প্রচলিত আছে। এসব কিংবদন্তির কারণে ধীরে ধীরে তিনি ‘পীর বলুহ দেওয়ান’ নামে পরিচিতি লাভ করেন বলে স্থানীয়রা জানান। তবে এসব কাহিনির ঐতিহাসিক সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পীর বলুহ দেওয়ানের মৃত্যুর পর কপোতাক্ষ নদের তীরে হাজরাখানা গ্রামে তাঁর রওজা শরীফকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে ওরশ ও মেলা হয়ে আসছে। এছাড়া তাঁর জন্মস্থান বড় ধোপাদি এবং চৌগাছা পৌর এলাকার বেলেমাঠ গ্রামেও তাঁর মাজার রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
অশ্লীলতা ও অনিয়ম ঠেকাতে কমিটির উদ্যোগ
মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট ঠিকাদার মিজানুর রহমান বিশ্বাস বলেন, “সরকারি নির্দেশনা মেনেই মেলা পরিচালনা করা হচ্ছে। রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধের জন্য মাইকিং করে ব্যবসায়ীদের জানানো হচ্ছে। মেলায় কোনো ধরনের অশ্লীলতা, ইসলাম ও শরিয়তবিরোধী কর্মকাণ্ড হতে দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, মাজারের আশপাশে মাদক, বিশেষ করে গাঁজা ও ইয়াবার আড্ডা বা কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর জন্য এলাকাবাসী ও দর্শনার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মেলা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবুল বিশ্বাস বলেন, ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলা শুধু এ এলাকার মানুষের নয়; দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে এ মেলার পরিচিতি রয়েছে। মেলার পরিবেশ সুন্দর রাখতে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
হাজরাখানা গ্রামের বাসিন্দা ও নারায়ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা বিএম বাবুল আক্তার বলেন, মেলা পরিচালনার জন্য স্থানীয়দের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে মেলা পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন, প্রশাসনের দেওয়া শর্ত মেনেই মেলা পরিচালনা করা হবে। এ বছর মেলায় কোনো ধরনের অশ্লীলতা বা অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ড হতে দেওয়া হবে না। স্থানীয় লোকজনও এ বিষয়ে একমত হয়েছেন।
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ পিপিএম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি.এম.এ. মুনীব এবং উপজেলা প্রশাসন মেলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম জানিয়েছেন, মেলাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্ত-দর্শনার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রশাসন ও মেলা পরিচালনা কমিটির সমন্বিত তদারকির মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী এ মেলার ধর্মীয় ও সামাজিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখা সম্ভব হবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


চৌগাছায় ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলা ঘিরে উৎসবের আমেজ ১৫ দিনব্যাপী মেলা, দূর-দূরান্ত থেকে ভক্ত-দর্শনার্থীদের সমাগম

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
চৌগাছায় ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলা ঘিরে উৎসবের আমেজ ১৫ দিনব্যাপী মেলা, দূর-দূরান্ত থেকে ভক্ত-দর্শনার্থীদের সমাগম এম এ মান্নান, চৌগাছা (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় কপোতাক্ষ নদের তীরে ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলা ঘিরে গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় বইছে আনন্দের ফোয়ারা। উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের হাজরাখানা গ্রামে পীর বলুহ দেওয়ান (র.)-এর রওজা শরীফকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারও বসেছে এ মেলা। দূর-দূরান্ত থেকে ভক্ত, দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীরা এসে জড়ো হয়েছেন। মেলাকে ঘিরে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। মেলা পরিচালনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক শর্ত দেওয়া হয়েছে। মেলা কমিটি জানিয়েছে, শর্ত মেনে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে মেলা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বাংলা সনের ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবারকে কেন্দ্র করে পীর বলুহ দেওয়ান (র.)-এর রওজা শরীফে ওরশ অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে বসে ঐতিহ্যবাহী এ মেলা। মেলা উপলক্ষে ভাদ্র মাসের শেষ দিকে এলাকার মেয়ে-জামাইদের বাপের বাড়িতে আসার রীতিও দীর্ঘদিনের। ফলে মেলাকে ঘিরে শুধু হাজরাখানা নয়, আশপাশের গ্রাম ও পাশের উপজেলাগুলোতেও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। মেলায় বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট বসেছে। কাঠের তৈরি আসবাবপত্র, স্টিলের সামগ্রী, অটবি ও শিশুদের খেলনাসহ নানা পণ্য নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এসেছেন। কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, তারা প্রতিবছর এ মেলায় দোকান বসান। এবারও মেলা শুরুর আগেই তারা হাজরাখানায় এসে দোকান সাজিয়েছেন। ফরিদপুর থেকে আসা লুৎফর রহমান বলেন, কোনো প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবার এলেই তারা পীরের রওজা শরীফে চলে আসেন। যুগ যুগ ধরে ওরশের পাশাপাশি এ মেলাও হয়ে আসছে। কুষ্টিয়ার আনোয়ারা খাতুন, শরীয়তপুরের চাইনা, ঝিনাইদহের রাশেদা, ঢাকার বিক্রমপুরের মামুন খান, নারায়ণগঞ্জের সোহেল পাগল, যশোরের ঘোপের নূর ইসলাম, চুড়ামনকাঠির আব্দুর রহমান, ভেড়ামারার উম্মে হাবিবা এবং চৌগাছার মুক্তদাহ গ্রামের রেজাউল ইসলামসহ বিভিন্ন এলাকার ভক্তরা রওজা শরীফে এসে জিকির ও ইবাদতে অংশ নিচ্ছেন। তারা জানান, রওজা শরীফের পক্ষ থেকে তাদের নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পীর বলুহ দেওয়ানকে ঘিরে নানা জনশ্রুতি পীর বলুহ দেওয়ান (র.)-কে ঘিরে এ অঞ্চলে রয়েছে নানা লোককথা ও জনশ্রুতি। স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর জন্ম ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বড় ধোপাদি গ্রামে। তাঁর পিতার নাম ছুটি বিশ্বাস। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া বলুহ ছোটবেলায় হাজরাখানা গ্রামে তাঁর মামার বাড়িতে চলে আসেন। সেখানে থেকে তিনি বিভিন্ন বাড়িতে ও ক্ষেত-খামারে কাজ করতেন। স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত জনশ্রুতি অনুযায়ী, একবার তিনি গরু চরাতে গিয়ে গাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। গরুগুলো অন্যের ফসলের ক্ষেতে ঢুকে পড়লে ক্ষেতের মালিক সেগুলো খোয়াড়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তখন বলুহ গরুগুলোকে বক বানিয়ে গাছের ডালে বসিয়ে দেন—এমন কাহিনি স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে। এ ছাড়া সরিষার গাদায় আগুন লাগিয়ে দেওয়ার পরও সরিষা অক্ষত থাকার মতো আরও নানা অলৌকিক কাহিনি তাঁকে ঘিরে এলাকায় প্রচলিত আছে। এসব কিংবদন্তির কারণে ধীরে ধীরে তিনি ‘পীর বলুহ দেওয়ান’ নামে পরিচিতি লাভ করেন বলে স্থানীয়রা জানান। তবে এসব কাহিনির ঐতিহাসিক সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পীর বলুহ দেওয়ানের মৃত্যুর পর কপোতাক্ষ নদের তীরে হাজরাখানা গ্রামে তাঁর রওজা শরীফকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে ওরশ ও মেলা হয়ে আসছে। এছাড়া তাঁর জন্মস্থান বড় ধোপাদি এবং চৌগাছা পৌর এলাকার বেলেমাঠ গ্রামেও তাঁর মাজার রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। অশ্লীলতা ও অনিয়ম ঠেকাতে কমিটির উদ্যোগ মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট ঠিকাদার মিজানুর রহমান বিশ্বাস বলেন, “সরকারি নির্দেশনা মেনেই মেলা পরিচালনা করা হচ্ছে। রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধের জন্য মাইকিং করে ব্যবসায়ীদের জানানো হচ্ছে। মেলায় কোনো ধরনের অশ্লীলতা, ইসলাম ও শরিয়তবিরোধী কর্মকাণ্ড হতে দেওয়া হবে না।” তিনি আরও বলেন, মাজারের আশপাশে মাদক, বিশেষ করে গাঁজা ও ইয়াবার আড্ডা বা কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর জন্য এলাকাবাসী ও দর্শনার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মেলা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবুল বিশ্বাস বলেন, ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলা শুধু এ এলাকার মানুষের নয়; দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে এ মেলার পরিচিতি রয়েছে। মেলার পরিবেশ সুন্দর রাখতে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের সহযোগিতা প্রয়োজন। হাজরাখানা গ্রামের বাসিন্দা ও নারায়ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা বিএম বাবুল আক্তার বলেন, মেলা পরিচালনার জন্য স্থানীয়দের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে মেলা পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন, প্রশাসনের দেওয়া শর্ত মেনেই মেলা পরিচালনা করা হবে। এ বছর মেলায় কোনো ধরনের অশ্লীলতা বা অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ড হতে দেওয়া হবে না। স্থানীয় লোকজনও এ বিষয়ে একমত হয়েছেন। চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ পিপিএম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি.এম.এ. মুনীব এবং উপজেলা প্রশাসন মেলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম জানিয়েছেন, মেলাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্ত-দর্শনার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রশাসন ও মেলা পরিচালনা কমিটির সমন্বিত তদারকির মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী এ মেলার ধর্মীয় ও সামাজিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখা সম্ভব হবে।

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
চৌগাছায় ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলা ঘিরে উৎসবের আমেজ ১৫ দিনব্যাপী মেলা, দূর-দূরান্ত থেকে ভক্ত-দর্শনার্থীদের সমাগম
0:00 0:00
1.0x