প্রায় অর্ধ হাজার মোটরসাইকেলের র্যালি
কুরবাননগরে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ সুহেল পারভেজকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় রাজনীতিতে সরব হয়ে উঠেছে বিভিন্ন মহল। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ সুহেল পারভেজের সমর্থনে আয়োজিত এক বিশাল মোটরসাইকেল র্যালি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। আয়োজকদের দাবি, র্যালিতে প্রায় অর্ধ হাজার মোটরসাইকেল অংশ নেয়। বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেলের অংশগ্রহণে র্যালিটি এলাকায় দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং এটি তার প্রার্থিতাকে ঘিরে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন তার অনুসারীরা।
মোঃ সুহেল পারভেজ কুরবাননগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তার সমর্থকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। মানুষের সুখ-দুঃখের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা এবং সবার সঙ্গে আন্তরিক আচরণের কারণে তিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিতি পেয়েছেন।
ব্যতিক্রমী র্যালিতে নজর কাড়লেন সুহেল পারভেজ
গতকালের মোটরসাইকেল র্যালিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায় বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। একের পর এক মোটরসাইকেল নিয়ে সমর্থকদের অংশগ্রহণে র্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
প্রায় অর্ধ হাজার মোটরসাইকেলের এই জমায়েতকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয় কৌতূহল। অনেকেই রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে র্যালিটি দেখেন এবং মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। সমর্থকদের দাবি, কুরবাননগর ইউনিয়নের সাম্প্রতিক নির্বাচনী পরিবেশে এত বড় মোটরসাইকেল র্যালি ছিল উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা।
তবে এই র্যালিতে অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা ও এর তাৎপর্য নিয়ে আয়োজকদের দাবিই এখানে উল্লেখ করা হচ্ছে; স্বাধীনভাবে সংখ্যাটি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সৎ ও সুন্দর আচরণের জন্য প্রশংসা
সুহেল পারভেজের সমর্থকদের কাছে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় শুধু একজন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নয়, বরং একজন সহজ-সরল ও মানুষের সঙ্গে মিশে চলা ব্যক্তি হিসেবে।
স্থানীয় সমর্থকদের ভাষ্য, তার কথাবার্তা ও আচরণে বিনয় এবং আন্তরিকতা রয়েছে। ছোট-বড় সবার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেন তিনি। এ কারণেই এলাকার অনেকেই তাকে আপনজনের মতো মনে করেন বলে দাবি করছেন তার ঘনিষ্ঠরা।
তাদের মতে, জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য মানুষের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি না করে মানুষের কাছে থাকা জরুরি। আর সেই জায়গায় সুহেল পারভেজ দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন।
গরীব-দুঃখী ও অসহায় মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়
সুহেল পারভেজকে নিয়ে আলোচনায় বারবার উঠে আসছে গরীব, দুঃখী ও অসহায় মানুষের প্রসঙ্গ। তার সমর্থকদের দাবি, সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষের কষ্ট তিনি অনুভব করেন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেন।
স্থানীয়দের একাংশের প্রত্যাশা, তিনি যদি ভবিষ্যতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন, তাহলে এলাকার দরিদ্র পরিবার, অসহায় মানুষ, বয়স্ক ব্যক্তি, তরুণ সমাজ এবং সাধারণ নাগরিকদের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবেন।
মানুষের ভালোবাসাকেই শক্তি মনে করেন সমর্থকেরা
সুহেল পারভেজের সমর্থকদের মতে, কোনো জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা। সেই আস্থা অর্জনের লক্ষ্যেই তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন।
তার অনুসারীরা বলেন, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, সুখের সময়ে মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া এবং এলাকার মানুষের কথা মন দিয়ে শোনা—এই গুণগুলো একজন জনপ্রতিনিধিকে মানুষের কাছাকাছি নিয়ে আসে।
তাদের দাবি, সুহেল পারভেজের ক্ষেত্রেও মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও সামাজিক যোগাযোগ তার সমর্থনের অন্যতম ভিত্তি।
উন্নয়ন ও জনসেবাকে সামনে রেখে প্রত্যাশা
কুরবাননগর ইউনিয়নের ভোটারদের সামনে এবারও থাকবে নানা প্রত্যাশা। যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, দরিদ্র মানুষের সহায়তা এবং স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
সুহেল পারভেজের সমর্থকেরা বলছেন, তিনি সুযোগ পেলে মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি জনবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গঠনের চেষ্টা করবেন। তাদের প্রত্যাশা, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে তিনি দল-মত নির্বিশেষে ইউনিয়নের সব মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন।
র্যালির পর নতুন করে আলোচনায় প্রার্থিতা
গতকালের বিশাল মোটরসাইকেল র্যালির পর কুরবাননগর ইউনিয়নের বিভিন্ন মহলে মোঃ সুহেল পারভেজের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। র্যালিতে অংশ নেওয়া সমর্থকদের উপস্থিতি তার প্রতি একটি অংশের সমর্থনের চিত্র তুলে ধরেছে বলে মনে করছেন তার অনুসারীরা।
তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করবেন ভোটাররা। প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, সামাজিক কর্মকাণ্ড, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও এলাকার উন্নয়ন নিয়ে পরিকল্পনা—সবকিছু বিবেচনা করেই ভোটাররা তাদের সিদ্ধান্ত নেবেন।
মোঃ সুহেল পারভেজের সমর্থকদের প্রত্যাশা, মানুষের পাশে থাকার যে ভাবমূর্তি নিয়ে তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন, ভবিষ্যতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন তিনি। আর গতকালের বিশাল মোটরসাইকেল র্যালি তার প্রার্থিতাকে ঘিরে সমর্থকদের আগ্রহ ও উচ্ছ্বাসের একটি দৃশ্যমান প্রকাশ হয়ে থাকল।
ছবি: গতকাল চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ সুহেল পারভেজের সমর্থনে আয়োজিত মোটরসাইকেল র্যালির দৃশ্য।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত