অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আলাউদ্দিন হোস্টেলের সামনের একটি পুরোনো ও ভাঙাচোরা ভবন। স্থানীয়দের দাবি, ভবনটির নিচতলায় কোনো বিদ্যুৎ মিটার নেই। অথচ সেখানে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। কীভাবে এবং কোন উৎস থেকে সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘রিপন’ নামের ওই ব্যক্তি কোনো বৈধ মিটার ছাড়াই বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছেন। এর বিনিময়ে তিনি নিয়মিত টাকা আদায় করেন বলেও দাবি তাদের।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, কোনো স্থাপনায় বৈধ বিদ্যুৎ মিটার না থাকলে সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে কীভাবে? কোন উৎস বা লাইন থেকে সংযোগ নেওয়া হয়েছে এবং কার অনুমতিতে তা ব্যবহার করা হচ্ছে—এসব বিষয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, শুধু ওই ভবনেই নয়, মিটফোর্ড হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় আরও কয়েকটি দোকান ও স্থাপনায় একইভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এসব সংযোগের বিনিময়ে নিয়মিত টাকা আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকা ও আশপাশের প্রতিটি সন্দেহজনক বিদ্যুৎ সংযোগ পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কোন স্থাপনায় বৈধ মিটার রয়েছে, কোন স্থাপনায় নেই, কোন লাইন থেকে বিদ্যুৎ নেওয়া হচ্ছে এবং সংযোগের অনুমোদন রয়েছে কি না—এসব তথ্য যাচাই করা জরুরি।
স্থানীয়দের আরও প্রশ্ন, যদি দীর্ঘদিন ধরে মিটারবিহীনভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে বিষয়টি এসেছে কি না। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বা অন্য কারও যোগসাজশ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এই ঘটনায় জড়িত—এমন কোনো স্বাধীন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তাই বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সাধারণ মানুষ বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন। সেখানে কোনো মিটার ছাড়াই বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হলে তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।
তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংযোগগুলোর বৈধতা যাচাই করুক। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবহারের নামে কোনো অর্থ আদায় করা হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হোক।
অভিযোগের বিষয়ে ‘রিপন’-এর বক্তব্য জানা প্রয়োজন। তিনি কোন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছেন, বিদ্যুৎ সংযোগের উৎস কী এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিনিময়ে টাকা নেওয়া হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে তার বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
মিটফোর্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল এলাকায় মিটারবিহীন বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগ জননিরাপত্তা ও সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার দিক থেকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে ‘মিটার নেই, তবুও বিদ্যুৎ কোথা থেকে আসছে এবং কার অনুমোদনে চলছে’—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর বের করা হোক।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত