সাভারের আশুলিয়ায় মোঃ সোহরাব হোসেন নামে এক সাংবাদিককে মারধর, গলায় চাপ দিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা, নগদ ১ লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এনামুল হক ও শেখ ওয়াসিম ইকবালসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী সোহরাব হোসেন পেশায় সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী। তিনি দৈনিক গণজমিন ও এটিভি সংবাদে সংবাদকর্মী হিসেবে কাজ করছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর আশুলিয়া থানাধীন নারী ও শিশু হাসপাতালের সামনে একটি বিক্ষোভ ও মিছিলের ভিডিও ধারণ করেছিলেন সোহরাব। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ব্যবসায়িক মালামাল কেনার উদ্দেশ্যে জামগড়া ছয়তলা কলোনির বাসা থেকে বের হন সোহরাব। এ সময় তার সঙ্গে নগদ এক লাখ টাকা ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পথে এনামুল হক তাকে জরুরি কথা আছে বলে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সামনে নিয়ে যান।
সেখানে আগে থেকেই শেখ ওয়াসিম ইকবালসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন অবস্থান করছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা সংবাদ সংগ্রহের বিষয় নিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় একজন লোহার রড দিয়ে সোহরাবের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি ডান হাত দিয়ে তা প্রতিহত করেন। এতে তার ডান হাতের তালুতে রক্তাক্ত জখম হয়। এছাড়া শেখ ওয়াসিম ইকবাল দুই হাত দিয়ে তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় এনামুল হক তার প্যান্টের পকেট থেকে জোরপূর্বক এক লাখ টাকা নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন সোহরাব। পরে তিনি মোবাইল ফোনে পরিচিত একজনকে ফোন করার চেষ্টা করলে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে রাস্তায় আঘাত করে ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাকে পরবর্তীতে সুযোগ পেলে হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে চলে যান।
পরে পরিবারের সহযোগিতায় সোহরাব হোসেন ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পারিবারিকভাবে আলোচনা শেষে থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোঃ সোহরাব হোসেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে পুলিশের তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত