জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

চীন-নেপাল সীমান্তে দুর্যোগে ভেসে গেছে গ্রাম, সড়ক ও সেতু শত শত পর্যটক নিখোঁজ

নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যা

নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যা
ভূমিধসে ভেসে যাচ্ছে জনপদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দেশটির উত্তরাঞ্চলের রাশুয়া জেলায় চীন-নেপাল সীমান্তের কাছে ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিকভাবে পানির প্রবল স্রোত নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে নদীর পানি আশপাশের জনপদে ঢুকে পড়ে এবং বহু ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আকস্মিক বন্যা হিসেবে বর্ণনা করা হলেও এর সঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় কাদাধস ও ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে। চীনের তিব্বত সীমান্তের কাছাকাছি এলাকাতেও একটি বড় কাদাধসের খবর পাওয়া গেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নেপালি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ এই দুর্যোগে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৮৪ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। উদ্ধারকারী দল নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রবল স্রোতে বেশ কয়েকটি সেতু ও যানবাহন ভেসে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। উদ্ধারকাজে নেপাল সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও নদীর পানির উচ্চতার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।

দুর্যোগের কারণে কয়েকটি বিদ্যুৎ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আরও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এদিকে নেপালের পাশাপাশি চীন ও ভারতও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং উদ্ধার ও মানবিক সহায়তার বিষয়ে সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে উদ্ধার অভিযান ও সরকারি হিসাব-নিকাশ অব্যাহত রয়েছে।

নেপালে বর্ষা মৌসুমে বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ধস নতুন নয়। তবে এবারের আকস্মিক দুর্যোগে একই সঙ্গে জনপদ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পর্যটন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দেশটির উত্তরাঞ্চলের রাশুয়া জেলায় চীন-নেপাল সীমান্তের কাছে ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিকভাবে পানির প্রবল স্রোত নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে নদীর পানি আশপাশের জনপদে ঢুকে পড়ে এবং বহু ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়।প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আকস্মিক বন্যা হিসেবে বর্ণনা করা হলেও এর সঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় কাদাধস ও ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে। চীনের তিব্বত সীমান্তের কাছাকাছি এলাকাতেও একটি বড় কাদাধসের খবর পাওয়া গেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।নেপালি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ এই দুর্যোগে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৮৪ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। উদ্ধারকারী দল নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।প্রবল স্রোতে বেশ কয়েকটি সেতু ও যানবাহন ভেসে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। উদ্ধারকাজে নেপাল সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও নদীর পানির উচ্চতার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।দুর্যোগের কারণে কয়েকটি বিদ্যুৎ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আরও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।এদিকে নেপালের পাশাপাশি চীন ও ভারতও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং উদ্ধার ও মানবিক সহায়তার বিষয়ে সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে উদ্ধার অভিযান ও সরকারি হিসাব-নিকাশ অব্যাহত রয়েছে।নেপালে বর্ষা মৌসুমে বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ধস নতুন নয়। তবে এবারের আকস্মিক দুর্যোগে একই সঙ্গে জনপদ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পর্যটন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যা
0:00 0:00
1.0x