স্টাফ রিপোর্ট:উন্নয়নের কৃতিত্ব কার? আর ঠিকাদারের আসল দায়িত্বই বা কী?
প্রিয় কেদার ও কচাকাটাবাসী,
আসসালামু আলাইকুম।
আমাদের এলাকার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট দূর করতে এবং জনদুর্ভোগ কমাতে বিগত সময়ে যে কয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের প্রস্তাব ও অনুমোদন আনা হয়েছিল, তার পেছনের সত্য ইতিহাস আজ পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য আমরা বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করি এবং অত্যন্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে কয়েকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের অনুমোদন ও বরাদ্দের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়েছিলাম। তৎকালীন সময়ে এই ৪টি ব্রিজের আবেদন ও অনুমোদনের নেপথ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংগঠন এবং থানা সেক্রেটারী জনাব আব্দুল বাতেন (বিএসসি)-সহ জেলা আমীর এবং বর্তমান সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম (এমপি) মহোদয়। অক্লান্ত পরিশ্রম করে যে ৪টি ব্রিজের আবেদন ও বরাদ্দ নিশ্চিত করেছিলেন, সেগুলো হলো:
১. কেদার মহিলা কলেজ সংলগ্ন (০২টি ব্রিজ)
২. কচাকাটা বাজার শিশু নিকেতন সংলগ্ন (০১টি ব্রিজ)
৩. সভারকুটি রাস্তাগামী (০১টি ব্রিজ)
কিন্তু বর্তমানে একটি বিষয় খুব দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই কাজগুলোর টেন্ডার পেয়েছেন "আপন ট্রেডার্স"এবং সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে এমন ভাব দেখাচ্ছেন যেন এই ব্রিজগুলো তারাই নিজ উদ্যোগে এনে দিয়েছেন।
⚠️ এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার—ঠিকাদার বা টেন্ডার পাওয়া ব্যক্তিদের আসল কাজ কী? প্রকল্প বা উন্নয়ন কাজ কেউ নিজের পকেটের টাকায় করে দেয় না।
ঠিকাদারের কাজ হলো সরকারের বরাদ্দকৃত বাজেটের আওতায় সততা ও সঠিক মান বজায় রেখে নির্দিষ্ট সময়ে শুধু নির্মাণ কাজটুকু সম্পন্ন করা—এটি তাদের পেশাগত দায়িত্ব ও কাজের চুক্তি, কোনো দয়া বা অনুদান নয়। ব্রিজ বা রাস্তা এনে দেওয়ার জন্য সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ, দেনদরবার ও রাজনৈতিক বা সামাজিক লবিং করতে হয়—যা জনাব মোঃ আব্দুল বাতেন (বিএসসি) ও তাঁর সংগঠন অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে করেছেন।
কাজেই, ঠিকাদারদের রুটিন কাজকে নিজেদের কৃতিত্ব বলে চালিয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার কোনো সুযোগ নেই। সচেতন এলাকাবাসী আরো ভালোভাবে জানা প্রয়োজন।
জনগণের অধিকার আদায়ের এই লড়াইয়ে জনাব মোঃ আব্দুল বাতেন (বিএসসি) আপনাদের পাশে ছিলেন, ভবিষ্যতেও এলাকার যেকোনো উন্নয়নে সবসময় আপনাদের সাথে থাকবেন ইনশাআল্লাহ।
আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, ঠিকাদার ভাইদের প্রতি আমাদের কোনো অসন্তোষ নেই। তারা তাদের চুক্তির কাজ লাভ নিয়েই করবেন। কিন্তু কাজের মান যেন শতভাগ ঠিক থাকে এবং কোনো রকম অনিয়ম যেন না হয়—সেটি নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। এলাকাবাসী নিম্নমানের কাজ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
আসলে এটি নিজের কৃতিত্ব জাহির করার জন্য নয়। আপনাদের সেবা করা আমার নৈতিক দায়িত্ব, এর জন্য বাহবা পাওয়ার কোনো লোভ আমার নেই। তবে সমস্যা হলো, যখন একটি কাজের পেছনের দীর্ঘ পরিশ্রমকে আড়াল করে ঠিকাদার বা অন্য কেউ এর একক কৃতিত্ব দাবি করতে চায়, তখন সত্যটা ঢাকা পড়ে যায়। ঠিকাদারের কাজ হলো চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে সততার সাথে কাজটি বাস্তবায়ন করা, কোনো দয়া বা অনুদান নয়।
— নিবেদনে:
জনাব মোঃ আব্দুল বাতেন (বিএসসি)
চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ১৪নং কেদার ইউনিয়ন এবং
সেক্রেটারী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কচাকাটা থানা।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত