মেহেন্দিগঞ্জে মসজিদ-মাদ্রাসার জিআর চাল নিয়ে তোলপাড়—গণশুনানিতে ১৬–১৮ প্রতিষ্ঠানের চাল না পাওয়ার দাবি, ১০ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ!
মেহেন্দিগঞ্জে মসজিদ-মাদ্রাসার নামে বরাদ্দকৃত জিআর চাল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে চরএককরিয়া ইউনিয়নের মসজিদ কমিটি ও স্থানীয়রা মাননীয় মন্ত্রী জনাব রাজিব আহসান-এর কাছে অভিযোগ করলে তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানানোর নির্দেশ দেন।
এর ধারাবাহিকতায় উপজেলা প্রশাসন জিআর চাল পাওয়া ও না-পাওয়া মসজিদ-মাদ্রাসার প্রতিনিধিদের উপজেলা মাল্টিপারপাস হলরুমে উপস্থিত হতে খবর দেয়। সেখানে আনুমানিক ৩০–৪০টি মসজিদ-মাদ্রাসার প্রতিনিধি ও স্থানীয়রা উপস্থিত হন। সাংবাদিকদের উপস্থিতিতেও বিষয়টি অনেকটা গণশুনানির আকার ধারণ করে।
এ সময় কারা জিআর চাল পেয়েছেন, কারা পাননি—তা নিয়ে সরাসরি যাচাই-বাছাই করা হয়। উপস্থিতদের বক্তব্য অনুযায়ী, আনুমানিক ১৬–১৮টি মসজিদ-মাদ্রাসা জিআর চাল না পাওয়ার দাবি করে।
পরে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, তার কাছে জিআর চালের ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) এবং কিছু কমিটির কাগজপত্র আসে এবং সেগুলো দেখে তিনি ডিও ছাড়েন।
এরপর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মানুষের মুখে ছড়িয়ে পড়ার পর কথিত একটি সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে মসজিদ কমিটিগুলোকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অংশ—জাঙ্গালিয়া ও চরগোপালপুর ইউনিয়নের মসজিদ-মাদ্রাসার নাম ব্যবহার করে খাদ্যগুদামের সংশ্লিষ্ট হারুন এবং তার আত্মীয় শামীমের মাধ্যমে ৮টি মসজিদ-মাদ্রাসার কমিটিকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়ার দাবি সামনে এসেছে।
চরগোপালপুর ইউনিয়নের সোহেল মাস্টারের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, হারুনের আত্মীয় শামীম তার কাছে এসে বিষয়টি জানানোর পর মসজিদ-মাদ্রাসার কমিটিগুলোকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল—সরকারি হিসাবে এক মেট্রিক টন চালের মূল্য প্রায় ৫৪ হাজার টাকা হলে, ১০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কারণ কী?
জবাবে সোহেল মাস্টারের দাবি, “তারা চাল মোটেও পায়নি, তাই ১০ হাজার টাকা করে পেয়েছে।”
এখন সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—
❓ ১০ হাজার টাকা করে কারা পেলেন?
❓ টাকাগুলো কি প্রকৃত মসজিদ-মাদ্রাসা কমিটির কাছে গেছে?
❓ নাকি অন্য কারও পকেটে চলে গেছে?
❓ জিআর চাল বরাদ্দ ও উত্তোলনের পুরো প্রক্রিয়ায় কারা জড়িত?
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
⚠️ প্রতিবেদনে উল্লিখিত অর্থ লেনদেন ও অনিয়মের বিষয়গুলো অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হলো। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে দায় নির্ধারণ করা হবে।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত