বরমচাল রেলস্টেশনের পাশে জুয়ার আসর।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল রেলওয়ে স্টেশনের পাশে একটি বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর বসার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০ থেকে ২৫ জন জুয়াড়ি সেখানে এসে জুয়ায় অংশ নেন। বরমচাল রেলওয়ে স্টেশনটি কুলাউড়া উপজেলায় অবস্থিত।
অভিযোগ রয়েছে, ওই জুয়ার আসরের সঙ্গে।
ইরা মিয়া (৫০) টেংরা, রাজিব (৩৫) বরমচাল, রুকন (৩৬) ভাটেরা, হুমায়ূন আহমদ (৩৫) বড়দল, ইসরাব মিয়া মেম্বার বড়দল, এবং আকমল মিয়া মেম্বার তুলাপুর, ১ নম্বর ফতেহপুর ইউনিয়ন, রাজনগরসহ আরও কয়েকজন জড়িত।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত, ১ আগস্ট রাতে কুলাউড়া থানা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তাসহ একটি দল ওই জুয়ার আসরে অভিযান পরিচালনা করতে যায়। অভিযানে এসআই জুনেদ ও উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে পুলিশের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই জুয়ার আসরের কয়েকজনকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। ফলে তারা দ্রুত সরে গিয়ে আত্মগোপন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, **এসআই জুনেদ অভিযানের খবর আগে থেকেই জুয়ার আসরের ইরা মিয়া ও রাজিবকে জানিয়ে দেন।** এ কারণে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। আরও অভিযোগ রয়েছে, ওই জুয়ার আসর থেকে এসআই জুনেদ প্রতি সপ্তাহে **২৫ হাজার টাকা** করে নেন।
এদিকে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, **ইরা মিয়া প্রতি সপ্তাহে ডিবি পুলিশকে দেওয়ার কথা বলে ৩০ হাজার টাকা করে আদায় করেন।** স্থানীয়দের প্রশ্ন—এই অর্থ কোথায় যায় এবং কার কাছে দেওয়া হয়, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, জুয়ার আসরটিতে বিভিন্ন এলাকার লোকজন নিয়মিত যাতায়াত করেন। ফলে এলাকায় সামাজিক অবক্ষয় ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার **মোঃ মনিরুল ইসলাম**-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জুয়ার আসরের বিষয়ে **মৌলভীবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসিকে অভিযান পরিচালনার জন্য বলবেন** বলে জানান।
স্থানীয়দের দাবি, বরমচাল এলাকায় কথিত জুয়ার আসরটি বন্ধ করতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযানের তথ্য আগে থেকে ফাঁস করা এবং জুয়ার আসর থেকে নিয়মিত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ সত্য কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত