১৯৭১ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতের প্রাপ্তি: ইতিহাসের হিসাবও জানা প্রয়োজন
১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে সাহায্য করতে এসে ভারত কী পেয়েছিল—ইতিহাসের সেই হিসাবও জানা প্রয়োজন
লেখক: আরিফুল হকের উত্থাপিত তথ্য ও দাবির আলোকে
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের ভূমিকা ইতিহাসের অংশ। বাংলাদেশের মানুষ ভারতের সেই সহযোগিতাকে অস্বীকার করে না। মুক্তিযুদ্ধের সময় আশ্রয়, প্রশিক্ষণ, কূটনৈতিক সমর্থন এবং শেষ পর্যায়ে সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণ—এসবই ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
কিন্তু ইতিহাসের আরেকটি প্রশ্নও রয়েছে—ভারত বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে এসে কী পেয়েছিল?
লেখক আরিফুল হকের উত্থাপিত তথ্য ও দাবিতে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধকালীন ও যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ভারত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎস, সম্পদ এবং অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ করেছিল। জাতিসংঘের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে ভারতের কাছে বিপুল আর্থিক সহায়তা পৌঁছেছিল বলেও লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া পাকিস্তানি বাহিনীর ফেলে যাওয়া অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম, শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন মূল্যবান সম্পদ ভারত নিয়ে গিয়েছিল—এমন অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হয়ে আসছে। লেখক বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন ট্যাঙ্ক, সামরিক সরঞ্জাম, মেশিনারিজ, শিল্পকারখানার যন্ত্রাংশ, যানবাহন এবং অন্যান্য মূল্যবান সম্পদের কথা।
লেখাটিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং শিল্পকারখানা থেকে বিভিন্ন সম্পদ শত শত ওয়াগনে করে সীমান্তের ওপারে নিয়ে যাওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
সুতরাং ইতিহাসকে একপাক্ষিকভাবে দেখলে চলবে না।
বাংলাদেশ অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় জনগণের মানবিক সহযোগিতা ও ভারতের ভূমিকার যথাযথ মূল্যায়ন করবে। কিন্তু একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের অধিকার রয়েছে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে দেশের সম্পদ, অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে কী ঘটেছিল—তার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ হিসাব জানার।
কৃতজ্ঞতা কখনোই আত্মসম্মান বিসর্জনের নাম নয়।
বন্ধুত্ব কখনোই একতরফা সুবিধা দেওয়ার বিষয় হতে পারে না।
আজকের প্রজন্মের সামনে তাই ইতিহাসের সব দিক তুলে ধরা প্রয়োজন। কে বাংলাদেশকে কী দিয়েছে—তার পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে কে কী পেয়েছে, কোন পরিস্থিতিতে পেয়েছে এবং তার প্রকৃত হিসাব কত—সেটিও গবেষণা ও প্রামাণ্য দলিলের মাধ্যমে জাতির সামনে আসা জরুরি।
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। বন্ধুত্ব হবে সমতা, পারস্পরিক সম্মান, ন্যায্যতা এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে—এটাই হওয়া উচিত আমাদের ভবিষ্যৎ পথচলার মূলনীতি।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত