জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ার একটি আবাসিক ভবনের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে শুক্রবার রাতে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ার একটি আবাসিক ভবনের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে শুক্রবার রাতে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
০৪/০৯/২০২৬

ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ার একটি আবাসিক ভবনের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে শুক্রবার রাতে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মোঃ মোস্তাফিজার রহমান আকাশ, সাভার উপজেলা প্রতিনিধি 

ঢাকার আশুলিয়ায় একটি তালাবদ্ধ ভাড়া বাসার কক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই কক্ষ থেকে আনুমানিক পাঁচ মাস বয়সী একটি মৃত ভ্রূণও উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে কী কারণে এবং কারা তাদের হত্যা করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার হাজী হযরত আলীর মালিকানাধীন চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন- দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার বড় মাগুড়া পাকপাড়া এলাকার নাজমা আক্তার (৩৩) ও তার স্বামী নিশা পলাশবাড়ী এলাকার আলমগীর হোসেন (৪২)

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে আলমগীর ও নাজমা ওই কক্ষটি ভাড়া নেন। নাজমা স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তার স্বামী আলমগীর হকার হিসেবে কাজ করতেন। কক্ষটি ভাড়া নেওয়ার সময় নাজমা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

গত তিন দিন ধরে কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল। শুক্রবার রাতে কক্ষের ভেতর থেকে তীব্র পচা দুর্গন্ধ বের হলে আশপাশের ভাড়াটেদের সন্দেহ হয়। বিষয়টি ভবনের মালিককে জানানো হলে প্রথমে বিড়াল মারা গিয়ে পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বলে ধারণা করা হয়। পরে দুর্গন্ধ আরও তীব্র হলে মালিক ও ভাড়াটেরা কক্ষটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।

এ সময় খাটের ওপর নাজমা ও আলমগীরের অর্ধগলিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। একই কক্ষ থেকে একটি মৃত ভ্রূণও পাওয়া যায়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে আশুলিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, নিহত পুরুষের গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় মরদেহ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও বিভিন্ন আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক দল, ঢাকা জেলা পিবিআই এবং ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। পুলিশও ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত জব্দ করে তদন্ত শুরু করেছে।

নিহত নাজমার বোন শাপলা বেগম বলেন, আমরা দুই বোনই জামগড়ার একই কারখানায় কাজ করি। শনিবারও সে অফিসে যায়নি। তখন ভাবছিলাম, আমার বোন তো পোয়াতি, হয়তো কোনো সমস্যা হয়েছে, তাই কাজে যায়নি।

তিনি দাবি করেন, তার বোন ও দুলাভাইকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা থাকার কারণে তার বোনের পেট থেকে সন্তানটি বের হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি। আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাসেল হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিন আগেই ওই দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে জামগড়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই কক্ষ থেকে আনুমানিক পাঁচ মাস বয়সী একটি মৃত ভ্রূণও পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের আলামত ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের আগে বা পরে ওই নারীর গর্ভপাত হয়ে ভ্রূণটি বের হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ওসি আরও বলেন, নিহতদের পরিচয় ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।

এ ঘটনায় জামগড়া এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়। রহস্যজনক এই মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলতে নারাজ পুলিশ।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ার একটি আবাসিক ভবনের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে শুক্রবার রাতে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ার একটি আবাসিক ভবনের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে শুক্রবার রাতে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।মোঃ মোস্তাফিজার রহমান আকাশ, সাভার উপজেলা প্রতিনিধি ঢাকার আশুলিয়ায় একটি তালাবদ্ধ ভাড়া বাসার কক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই কক্ষ থেকে আনুমানিক পাঁচ মাস বয়সী একটি মৃত ভ্রূণও উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে কী কারণে এবং কারা তাদের হত্যা করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার হাজী হযরত আলীর মালিকানাধীন চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।নিহতরা হলেন- দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার বড় মাগুড়া পাকপাড়া এলাকার নাজমা আক্তার (৩৩) ও তার স্বামী নিশা পলাশবাড়ী এলাকার আলমগীর হোসেন (৪২)পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে আলমগীর ও নাজমা ওই কক্ষটি ভাড়া নেন। নাজমা স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তার স্বামী আলমগীর হকার হিসেবে কাজ করতেন। কক্ষটি ভাড়া নেওয়ার সময় নাজমা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।গত তিন দিন ধরে কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল। শুক্রবার রাতে কক্ষের ভেতর থেকে তীব্র পচা দুর্গন্ধ বের হলে আশপাশের ভাড়াটেদের সন্দেহ হয়। বিষয়টি ভবনের মালিককে জানানো হলে প্রথমে বিড়াল মারা গিয়ে পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বলে ধারণা করা হয়। পরে দুর্গন্ধ আরও তীব্র হলে মালিক ও ভাড়াটেরা কক্ষটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।এ সময় খাটের ওপর নাজমা ও আলমগীরের অর্ধগলিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। একই কক্ষ থেকে একটি মৃত ভ্রূণও পাওয়া যায়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে আশুলিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, নিহত পুরুষের গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় মরদেহ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও বিভিন্ন আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক দল, ঢাকা জেলা পিবিআই এবং ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। পুলিশও ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত জব্দ করে তদন্ত শুরু করেছে।নিহত নাজমার বোন শাপলা বেগম বলেন, আমরা দুই বোনই জামগড়ার একই কারখানায় কাজ করি। শনিবারও সে অফিসে যায়নি। তখন ভাবছিলাম, আমার বোন তো পোয়াতি, হয়তো কোনো সমস্যা হয়েছে, তাই কাজে যায়নি।তিনি দাবি করেন, তার বোন ও দুলাভাইকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা থাকার কারণে তার বোনের পেট থেকে সন্তানটি বের হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি। আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাসেল হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিন আগেই ওই দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে জামগড়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই কক্ষ থেকে আনুমানিক পাঁচ মাস বয়সী একটি মৃত ভ্রূণও পাওয়া গেছে।তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের আলামত ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের আগে বা পরে ওই নারীর গর্ভপাত হয়ে ভ্রূণটি বের হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।ওসি আরও বলেন, নিহতদের পরিচয় ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।এ ঘটনায় জামগড়া এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়। রহস্যজনক এই মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলতে নারাজ পুলিশ।

জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জনতার অনলাইন প্রেস ক্লাব
ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ার একটি আবাসিক ভবনের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে শুক্রবার রাতে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
0:00 0:00
1.0x