আশুলিয়ার একটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসার নামে প্রতারণা ও অপচিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে আল-আমিন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তিনি নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রোগী দেখছেন এবং প্রেসক্রিপশন প্রদান করে আসছেন। প্রতিটি রোগীর কাছ থেকে প্রায় ৩০০ টাকা করে ভিজিট নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আল-আমিনের কোনো স্বীকৃত চিকিৎসা ডিগ্রি বা চিকিৎসক হিসেবে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। স্থানীয়দের দাবি, তিনি একজন মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট জাহিদুল ইসলামের নাম ব্যবহার করে প্রেসক্রিপশন লিখে থাকেন এবং নিজের নামের আগে “ডাঃ” পদবি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছে চিকিৎসক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
এদিকে একই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ফাতেমা নামের এক নারীর বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি “মুক্তা” নামে পরিচয় দিয়ে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, আল-আমিন ও ওই নারী যৌথভাবে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন এবং চিকিৎসাসেবার আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শুরুতে তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। এছাড়া আল-আমিনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ের অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, চিকিৎসা বিষয়ে যথাযথ যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে রোগী দেখার কারণে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের দাবি, অপচিকিৎসার কারণে রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্যও উদ্বেগজনক।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, যদি অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি শুধু প্রতারণাই নয়, বরং মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে খেলার শামিল। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে এমন অভিযোগ প্রচলিত থাকা সত্ত্বেও কেন বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়নি? অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয়দের একটাই দাবি—অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক, সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং সাধারণ মানুষকে ভুয়া চিকিৎসা ও প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করা হোক।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত