মোংলা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য (১) সংবাদ কর্মী মাসুূদ আটকের পরের একটি ঘটনাও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সাংবাদিক রেজা মাসুদকে মোংলা থানায় আটকের পর লকআপের ভেতরে শুয়ে থাকার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিটি কীভাবে বাইরে গেল, কে এটি ধারণ করেছেন এবং কী উদ্দেশ্যে তা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে পাঠানো হয়েছে—এসব প্রশ্নেরও উত্তর প্রয়োজন। মাসুূদের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ সদস্যরাই ছবিটি ধারণ করে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন। অভিযোগটি সত্য হলে একজন আটক ব্যক্তির মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং আইনগত অধিকারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। কোনো মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার মতো কোনো আচরণ হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা উচিত। কারণ গ্রেপ্তার মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। বিচার শেষ হওয়ার আগেই কাউকে জনসমক্ষে অপমানিত বা অপরাধী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা ন্যায়বিচারের মূল চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মোংলার এই ঘটনা তাই শুধু একজন সাংবাদিকের গ্রেপ্তারের ঘটনা নয়। এটি একই সঙ্গে সাইবার অপরাধের অভিযোগ, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব, পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের দায়বদ্ধতার প্রশ্ন সামনে এনেছে।
এ ব্যাপারে রামপাল মোংলার সহকারী পুলিশ সুপার রিফাতুল ইসলাম জানিয়েছেন থানার ভিতরের এই ছবি কিভাবে বাহিরে এলো কে তুলেছে এবং তাদেরকি উদ্দেশ্য ছিল সে ব্যাপারে তদন্ত করা হবে। ঐদিন কার থানার সি সি ফুটেজও চেক করা হবে।
থানার কেউ এর সাথে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।
সব প্রশ্নের উত্তর একটাই—নিরপেক্ষ তদন্ত।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত